রিয়ালকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্বপ্নের ফাইনালে ম্যান সিটি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গত কয়েক আসরে ম্যানচেষ্টার সিটির যেন গলার কাঁটা হয়ে বেঁধে ছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ জায়ান্টদের কাছে হেরে তিন বার আসর থেকে ছিটকে গেছিলো সিটিজেনরা। প্রিমিয়ার লিগে একের পর এক শিরোপা জিতলেও ইউরোপের সেরা লড়াইয়ের শিরোপা তুলে ধরা হয়নি ইংলিশ ক্লাবটির। তবে সেই আক্ষেপ হয়তো ঘুচতে চলেছে গার্দিওয়ালার শীর্ষদের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছিলো ম্যানচেস্টার সিটি। তবে নিজেদের ঘরের মাঠে বুধবার দিবাগত রাতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

এদিন ঘরের মাঠে শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদকে নিজেদের আগ্রাসী ফুটবলের নমুনা দেখাতে থাকে গার্দিওয়ালার শীর্ষরা। একের এক আক্রমণ করতে থাকতে স্বাগতিকরা। ম্যাচে ২২তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো সিটিজনরা। হলান্ডের গতি সম্পূর্ণ হেডের বল ঠেকিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক কোর্তোয়া। তবে স্বাগতিকদের একের পর এক আক্রমণ সমাল দিতে পারেনি রিয়াল রক্ষণভাগ।

২৪তম মিনিটে বক্সে ঢুকে কোর্তোয়কে বুলেট গতির শটে পরাস্ত করে ম্যানসিটিকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন বি.সিলভা। এরপর গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে  বেনজেমা-ভিনিরা। তবে ঘরের মাঠে রিয়ালকে পাত্তায় দেই সিটিজেনরা। পাল্টা আক্রমণে রিয়াল মাদ্রিদ ওক্ষণের বার বার পরীক্ষা নিয়েছে হলান্ড-গিনদোয়ানরা। বাকানো শটে মাথা ছুঁয়িয়ে আবারো অসাধারণ গোল করে লিড দ্বিগুন করে সিলভা। আক্রমণ প্রতিআক্রমণে খেলা জমে উঠলেও গোলের দেখা পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ২-০ গোলে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

বিরতির থেকে ফিরে গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে সফরকারীরা। একের পর আক্রমণ করতে থাকে আনচেলত্তির শীর্ষরা। বিপরীতে ৭৩তম মিনিটে তৃতীয় গোলের সুযোগ হাত ছাড়া করেন হলান্ড। গিনদোয়ানের বাড়ানো বলে ফাঁকা বক্সে ঢুকে রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষকের কাছে পরাস্থ হন। তবে এদিন সফরকারীদে বার বার লজ্জায় ডুবিয়েছেন সিটিজেনরা। স্বাগতিদের আক্রমণ সামাল দিতে লুকা মদরিচকে তুলে রক্ষণভাগে শক্তি বাড়ায় রিয়াল কোচ। বিপরীতে ৭৫তম মিনিটে ক্যাভিন ডি-ব্রুইনের নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে মাথা ছুঁয়িয়ে রিয়ালের জালে বল পাঠান এম.আকাঞ্জি। এতে জয়ের উল্লাসে মেতে উঠে সিটির দর্শকরা।

এরপর  নিজের সব থেকে দামি অস্ত্র হলান্ড, গিনদোয়ান ও ডি-ব্রুইনকে মাঠ থেকে তুলেন গার্দিওয়ালা। এদিন সিটির ঘরের মাঠে বড্ড অচেনা হয়ে উঠে রিয়াল মাদ্রিদ। অতিরিক্ত সময়ে চতুর্থ গোল হজম করে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। বদলি খেলোয়ার ফিল ফেডোনের বাড়ানো বল থেকে  গোল করেন জে.আলভারেজ। শেষ পর্যন্ত  ৪-০ গোলের ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিকরা। এতে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

১১ জুন ইল্যান্ডের আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৩১তম আসরের ফাইনালে ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি।

এনবিএস/ওডে/সি

news