ব্রাজিল ফুটবলের অমর প্রতীক নেইমার জুনিয়র ২০২৬ সালের জুলাই মাসে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে অবসর নিলেন। ৫ জুলাই, ২০২৬, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নরওয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ম্যাচে ব্রাজিল ১-২ গোলে পরাজিত হয়, যেখানে নেইমার শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার মাঠে কাঁদতে কাঁদতে পড়ে যান, যা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে চমকপ্রদ বিদায়ের সংজ্ঞা দেয়।

১৮ আগস্ট ২০১০ সালে একই স্টেডিয়ামে ১৮ বছর বয়সী নবীন হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করা নেইমার, আজ প্রায় ১৬ বছর পর একই স্থানে তার আন্তর্জাতিক যাত্রা শেষ করলেন। তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে পেশাগত জীবনের নানা আঘাতের কারণে বিশ্বকাপে সফলতা অর্জন সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের বর্ণিল ঘরে আয়োজিত বিশ্বকাপে মাঝখানে ভেঙে যাওয়া মেরুদণ্ড এবং পরবর্তী বিশ্বকাপে পায়ের চোটসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে তার পারফরম্যান্স সীমিত হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপে তার পায়ের তীব্র চোট তাকে প্রায় পুরো টুর্নামেন্টে মাঠের বাইরে রাখে; স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ১৫ মিনিট এবং নরওয়ে ম্যাচে শেষ মুহূর্তে খেলেন। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে নেইমারের নাম ৮০ গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, পেলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপে চূড়ান্ত শিরোপা না জিততে পারায় অনেক ভক্ত তাকে অসম্পূর্ণ মনে করেন।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে নং ১০ জার্সির ধারক হিসেবে তার উপর ছিল ২০০ মিলিয়ন সমর্থকের বিশাল চাপ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মের তারকাদের জন্য পথপ্রদর্শক ছিলেন। ম্যাচের পর ব্রাজিল দলের অধিনায়ক মার্কুইনহোস জনসাধারণকে ধৈর্য রাখার আহ্বান জানান, "নতুন প্রজন্মের জন্য সমর্থন দিন।

নেইমারের পর আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে।" নেইমারের আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রতিভার সঙ্গে, এবং শেষ হলো আবেগপূর্ণ বিদায়ে। তার অবসর ব্রাজিলের ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি, যেখানে তার মতো একটি খেলোয়াড় আর সহজে দেখা যাবে না। এখন নতুন প্রজন্মের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা, যারা নেইমারের ছায়ায় নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলতে হবে।

Walton Ads