ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সোমবার ঘোষণা করেছে জিম্বাবুয়েতে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজের জন্য দল, যা শুরু হবে ২৩ জুলাই। অধিনায়ক অজিত আগারকর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী কমিটি ব্যাটিং স্কোয়াডে কোনো বড় পরিবর্তন করেনি, তবে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান সঞ্জু স্যামসনের নাম ছাড়া হয়েছে। বিসিসিআই থেকে জারি করা প্রেস রিলিজে সঞ্জুর বাদ পড়ার কারণ উল্লেখ করা হয়নি, বরং শুধু জানানো হয়েছে যে, নিতীশ কুমার রেড্ডির পরিবর্তে শিবম দুবে নির্বাচন হয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের সিরিজের জন্য।
সঞ্জু স্যামসন বর্তমানে টি২০ আন্তর্জাতিক দলে রয়েছেন এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের এশিয়ান গেমসের জন্য নির্বাচিত দলেও আছেন। তবে জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে ৫, ০ এবং ১ রানের দুর্বল পারফরম্যান্সের পর তিনি মূল একাদশ থেকে বাদ পড়েন।
এরপর ওল্ড ট্রাফোর্ডে ভৈভব সুর্যবংশী তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যিনি ইংল্যান্ডের পরবর্তী তিনটি টি২০ ম্যাচেও সুযোগ পেতে পারেন। জিম্বাবুয়ে সফর সঞ্জুর জন্য নিজেকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ ছিল। তবে দলের মেরুদণ্ড শক্ত করার জন্য প্রভসিমরন সিংকেও ইশান কিশানের ব্যাকআপ হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ভাল ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মার বিশ্রাম নেওয়াও সম্ভব ছিল, কারণ তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে টি২০ দলে নির্বাচিত। সঞ্জু কেন বারবার বাদ পড়ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডোশেটে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাত ব্যক্ত করেছিলেন।
বোলিং কোচ মর্নে মরকেলও একই মত প্রকাশ করেন। কিন্তু অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের টসের সময় নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন যে সঞ্জু এই সিরিজে খেলবেন না, এবং তার পরিবর্তে সুর্যবংশী খেলবেন। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত সঞ্জু ৬৫ টি২০ ম্যাচে খেলে ১,৪০৫ রান করেছেন।
তার অনিয়মিত পারফরম্যান্সই হয়তো তাকে দলে টিকিয়ে রাখতে অসুবিধা সৃষ্টি করেছে। তবে ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান দলের জন্য ছিল অবিস্মরণীয়; বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৯৭ রান এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দলের উত্থানে তার ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য নতুন ওপেনার হিসেবে অভিষেকের নির্বাচন এবং সুর্যবংশীর উত্থান সঞ্জুর স্থান সংকোচিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী সিরিজ ও আসন্ন এশিয়ান গেমসে সঞ্জু কীভাবে নিজেকে ফিরিয়ে আনবেন, সেটাই এখন প্রধান প্রশ্ন। ভারতের পরবর্তী ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে এই টি২০ সিরিজের ফলাফল ও দলে পরিবর্তন প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।