মরক্কো ফুটবল দল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের স্থায়ী শক্তি হিসেবে প্রমাণ করেছে। গত রাউন্ড অব ১৬-এ কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আটলাস সিংহেরা ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে। এই সাফল্যের পিছনের গোপন রহস্য ও পরিকল্পনা ভেঙে বললেন মরক্কোর প্রাক্তন কোচ ও ভারতীয় মোহনবাগান ক্লাবের সাবেক ম্যানেজার কারিম বেনচারিফা।

মরক্কোর সাফল্যের মূলমন্ত্র শুধুমাত্র আধুনিক মোহাম্মদ ষষ্ঠ ফুটবল একাডেমি নয়, বরং এটি একটি বিস্তৃত জাতীয় কৌশলের ফল। এই কৌশলে রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভা সনাক্তকরণ, কোচ প্রশিক্ষণ, উন্নত ক্রীড়াবিজ্ঞান, প্রতিযোগিতামূলক যুব কাঠামো এবং জাতীয় দলের জন্য একত্রিত ভিশন। বেনচারিফা বলেন, “একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি কেবল একটি অংশ, পুরো সিস্টেম এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাই মরক্কোর শক্তির মূল।” মরক্কোর রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচে গোলদাতা ইয়াসিন বুনু, আজেদিন উনাহি ও সুফিয়ানে রাহিমি সবাই দেশীয় যুব সিস্টেমের প্রোডাক্ট।

উনাহির দুটি গোল এবং রাহিমির একটি গোলে কানাডাকে হারানো প্রমাণ করে মরক্কো শুধু বিদেশি খেলোয়াড় আমদানি করে না, খেলার প্রতিভা নিজস্বভাবে তৈরি করে। বিশ্বমানের ডিফেন্ডার আছরাফ হাকিমির উদাহরণ দিয়ে বেনচারিফা জানান, “তাঁর প্রতিভা ছোটবেলা থেকেই সনাক্ত করা হয়েছিল এবং স্পেনের যুব ক্লাবে তার উন্নয়ন মনিটর করা হয়েছে। মরক্কোর স্কাউটিং নেটওয়ার্ক ও জাতীয় দলের স্পষ্ট পথনির্দেশনার ফলেই আজ তিনি বিশ্বমানের খেলোয়াড়।” মরক্কোর দলটি বৈচিত্র্যময়, যেখানে দেশীয় একাডেমি প্রোডাক্টদের সাথে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে জন্মানো দ্বৈত নাগরিক খেলোয়াড়রা একত্রে খেলেন।

বেনচারিফা বলেন, “সবাই একই পতাকার অধীনে খেলে একাত্ম। জন্মস্থান গুরুত্বপূর্ণ নয়, জাতীয় পরিচয় ও দায়বদ্ধতা প্রধান।” করিম বেনচারিফা ভারতীয় ফুটবলের জন্য মরক্কোর সাফল্যের মডেল একটি দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “দেশের আকার বা জনসংখ্যা নয়, পরিষ্কার ভিশন ও কাঠামো গঠনই সাফল্যের চাবিকাঠি।

যুব উন্নয়ন ও স্কাউটিংয়ে বিনিয়োগ করে মরক্কো বিশ্বসেরা দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।” মরক্কোর পরবর্তী ম্যাচের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। এই ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে মরক্কোর জন্য, কারণ এটি তাদের ২০১৮ সালের কাতার বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল রানকে পুনরায় স্মরণ করাবে এবং বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।

Walton Ads