আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ কুয়ালিফায়ার ম্যাচে লিওনেল মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সে আরজেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করেছে। ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর, আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মেসির নেতৃত্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রায় হারার মুখ থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হয়। এই ম্যাচে আরজেন্টিনার প্রথম গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, যাকে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে সহায়তা পাওয়া যায়।
পরে মেসি নিজেই গোল করে সমতা ফেরান। এদিকে, মিশরের একমাত্র গোলটি আসে ম্যাচের উত্তেজনা বজায় রাখার জন্য। ম্যাচের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজের মাথায় গোলটি আরজেন্টিনাকে জয় এনে দেয়।
ম্যাচের প্রথম ৭৮ মিনিটে আরজেন্টিনা মোটেই তাদের আসল ছাপ ছাড়তে পারেনি। দলটির খেলোয়াড়রা অনেকাংশে সঙ্কোচবোধ করছিলেন এবং তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার মর্যাদা অনুযায়ী খেলছিল না। তবে মেসি, যিনি একটি পেনাল্টি বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রথমার্ধে, আত্মবিশ্বাস হারাননি এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
মিশর দলের খেলোয়াড়রা সাহসী ও সুসংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিল। তবে ভিএআর-এর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে তাদের একটি সম্ভাব্য দ্বিতীয় গোল বাতিল হয়ে যায়, যা মিশরীয় এবং নিরপেক্ষ সমর্থকদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মেসির এই গোলের ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে, যা ইতিহাসের ছয়জন খেলোয়াড়ের মধ্যে একটি।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে আছেন, যা কোচ লিওনেল স্কালোনির মুখাবয়বেও স্পষ্ট হয়ে উঠে। ম্যাচের শেষার্ধে লাউতাড়ো মার্টিনেজকে পরিবর্তে নামানো হয়, যিনি ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দেন এবং ফার্নান্দেজকে জয়ের গোল করার সুযোগ তৈরি করেন। এই জয়ের ফলে আরজেন্টিনা আগামী রাউন্ডে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আগাবে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে কলম্বিয়া অথবা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, আফ্রিকার শীর্ষস্থানীয় মিশর দল গর্বের সঙ্গে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে। মেসির নেতৃত্বে আরজেন্টিনার এই নাটকীয় জয় বিশ্বকাপের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাদের পারফরম্যান্সের উপর নজর থাকবে।