এবার চ্যাটজিপিটিতে আসতে যাচ্ছে এক বড় ধরনের পরিবর্তন। ব্যবহারকারীরা এখন থেকে শুধু তথ্য জানতে কিংবা সাহায্য নিতে পারবেন না, বরং তৈরি করতে পারবেন নানা ধরনের কনটেন্টও। আপনি যত বিস্তারিত নির্দেশনা দেবেন, চ্যাটজিপিটি তত ভালোভাবে কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে। তবে এখানে একটি কথা মনে রাখা জরুরি— চ্যাটজিপিটি দেওয়া তথ্য সব সময় শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে। তাই যেকোনো কনটেন্ট পাবলিশ করার আগে সতর্কতার সাথে যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নতুন সুযোগ
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য আরও উন্মুক্ত কনটেন্ট তৈরির সুযোগ করে দিতে চলেছে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই একটি আপডেটের মাধ্যমে যাচাইকৃত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীরা 'ইরোটিকা' ধরনের কনটেন্ট তৈরি করার সুযোগ পাবেন।
স্যাম অল্টম্যান কী বললেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে অল্টম্যান জানান, "আমরা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেই বিবেচনা করতে চাই। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন আপডেট আসবে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা চাইলে বটকে 'আরও মানুষের মতো করে' প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন। এরপর আমরা এমন একটি ফিচার আনব, যা ব্যবহারকারীদের ইরোটিকা কনটেন্ট তৈরি করার অনুমতি দেবে।"
কেন আগে সীমাবদ্ধতা ছিল?
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, "মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই আমরা চ্যাটজিপিটিকে আগে বেশ সীমিত রেখেছিলাম। আমরা জানি, এতে অনেক ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা কমে গিয়েছিল। কিন্তু সেসময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।"
কীভাবে পরিবর্তন আসছে?
অল্টম্যান বলেন, "এখন আমাদের কাছে এমন প্রযুক্তি ও টুল আছে, যা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। তাই আমরা নিরাপদভাবে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে পারব।"
কেন আবার নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছিল?
এর আগে চলতি বছরের আগস্ট মাসে ওপেনএআই চ্যাটজিপিটির উত্তরে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। কারণ তখন ব্যবহারকারীদের একাংশের সঙ্গে চ্যাটবটের ক্ষতিকর মানসিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ার উদ্বেগ দেখা দেয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোর আত্মহত্যা করলে তার বাবা-মা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়েছিল, চ্যাটজিপিটি তাকে আত্মহত্যার পদ্ধতি জানায় এবং এমনকি তার 'সুইসাইড নোট'-এর খসড়াও লিখে দেয়। সেই দুঃখজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছিল, যা এখন কিছুটা শিথিল হতে যাচ্ছে।
