উপমহাদেশের সিনেমা আমদানি কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা না করে উপমহাদেশের চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতির বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারির ব্যাখ্যা চেয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আমদানি নীতির একটি ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. শওকত আলী চৌধুরীর বেঞ্চ এ রুল জারি করে।

চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অফিস আদেশ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতির একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে সম্প্রতি একটি রিট মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী শোয়ায়েব হাসান। রোববার তার শুনানি নিয়ে আদালত রুল দেয়। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল হক হেলাল, কাজী শোয়ায়েব হাসান ও নাজিম উদ্দিন।

এ প্রসঙ্গে শোয়ায়েব হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উপমহাদেশের অন্য ভাষার চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দিয়ে জারি করা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ কেন বে-আইনি ঘোষণা করা হবে না এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর অনুচ্ছেদ ২৫ (৩৬) (গ) কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১০ এপ্রিল বিনিময় শর্তে বাংলাদেশে উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অফিস আদেশ জারি করেছে। জাতীয় আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ এর ২৫ এর ৩৬ (গ) ধারা অনুযায়ী এই আদেশ জারি করা হয়। এই অফিস আদেশ ও আমদানি নীতির ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেছি।’

বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ এর ২৫ এর ৩৬ (গ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্র সাফটা ভুক্ত দেশসমূহে রপ্তানির বিপরীতে সমান সংখ্যক চলচ্চিত্র তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট দেশ হইতে আমদানি করা যাবে।’

আদালতে শুনানির বরাতে শোয়ায়েব বলেন, ‘কোনো সুনির্দিষ্ট এবং পরিপূর্ণ নীতিমালা তৈরি না করে এই ধরনের অনুমতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়। হিন্দি ছবির বিপরীতে বাংলাদেশের যে চলচ্চিত্র রপ্তানি করা হচ্ছে তার গুণগতমান এবং রপ্তানি করা চলচ্চিত্র ভারতে কতগুলো হলে প্রদর্শিত হলো এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রগুলো ব্যবসা সফল হচ্ছে কি না- এই বিষয়ে দেখভাল করার কোনো কর্তৃপক্ষ তৈরি করা হয়নি; যার ফলে কম মানসম্পন্ন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র রপ্তানি দেখিয়ে ভারতের বড় বাজেটের চলচ্চিত্র বাংলাদেশ আমদানি করে কিছু ব্যক্তি লাভবান হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।’সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

 

Walton Ads