বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান সামাজিক মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও বানিয়ে তা ছড়ানোর বিরুদ্ধে তিনি তার ভক্তদের সতর্ক করেছেন।
তিনি জানান, কিছু কিছু ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ছবি এডিট করে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ভুয়া কনটেন্টে অনেকেই বিশ্বাস করে মন্তব্য করছেন, যা তাকে বিব্রত করছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে সাদিয়া এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘কিছু পেজ আছে, যারা সেলিব্রিটিদের এআই দিয়ে এডিট করা ছবি বানায়। আমার মনে হয়, তারা আমার ছবি বানিয়ে ছড়াতে বেশি আনন্দ পায়।’
তিনি আরো লেখেন, ‘হ্যাঁ, তারা হয়তো এসব ছবি বানিয়ে আয় করছে। এটা হয়তো তাদের রুটি-রুজি। কিন্তু এতে তাদের নিচু মানসিকতা আর সস্তা মনোভাবটাই বেশি প্রকাশ পায়।’
সাদিয়া আয়মান এ ধরনের কনটেন্টে যারা প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন, তাদের প্রতিও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২৫ সালেও মানুষ কীভাবে এখনো এআই চিনতে পারে না বা বোঝে না! তারা ওই ভুয়া ছবি বা ভিডিও দেখে আসল ভেবে মন্তব্য করে!’
তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে সচেতন হওয়ার। এসব এআই-এডিট করা ভুয়া কনটেন্টকে সত্যি ভেবে বিশ্বাস করবেন না, আল্লাহর দোহাই লাগে!’
সাদিয়া তার অনুসারীদের কাছে একটি ছোট অনুরোধও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি কখনো এমন কোনো ছবি বা ভিডিও চোখে পড়ে, তাহলে দয়া করে পোস্টটি ও পেজটি রিপোর্ট করুন এবং সরাসরি ব্লক করে দিন।’
তিনি আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি তিনি সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের কাছে তুলে দেবেন। তারাই এই ব্যাপারটি সঠিকভাবে সামলাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
এই ধরনের ভুয়া কনটেন্ট যে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত ও মানসিক জীবনে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সাদিয়ার কথায় তা স্পষ্ট। তিনি চান, মানুষ যেন প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়।
তিনি আরো বলেন, একজন তারকার ছবি কিংবা ভিডিও এডিট করে মিথ্যা বার্তা ছড়ানো শুধু অবৈধই নয়, বরং তা মানবিকভাবেও অত্যন্ত অন্যায়। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সবার সহযোগিতা চেয়ে সাদিয়া মনে করিয়ে দেন, আজকের এই ভুয়া ছবি বা ভিডিও একদিন আমাদের সবার জীবনের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই এখনই সময় দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসার। প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধ করাও জরুরি।
