দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। অভিনয়ে কিছুটা অনিয়মিত হলেও গত বছর মুক্তি পায় তার অভিনীত টেলিফিল্ম ‘সুন্দরী পিএস চাই’। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীর। টেলিফিল্মটি প্রচারের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্যকর এক গুজব—সহশিল্পী হাসান জাহাঙ্গীরকে নাকি বিয়ে করেছেন মৌসুমী।

এই গুজবে দুজনই বেশ বিব্রত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসান জাহাঙ্গীর। এমনকি এভাবে মিথ্যা খবর ছড়ানো বন্ধ না হলে আইনি পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত তিনি। সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন,
‘আমি এখনো আইনি অ্যাকশনে যাইনি। কিন্তু আমি যাব। মৌসুমী আর আমি নাকি বিয়ে করেছি—এটা কত বড় বিব্রতকর খবর! যেসব পত্রিকা আর ইউটিউব চ্যানেল আমাদের নিয়ে এমন নিউজ করেছে, তারা মোটেও ভালো কাজ করেনি।’

তিনি আরও বলেন,
‘শুধু ভিউয়ের কথা ভেবেছে তারা, ভাবেনি মৌসুমীর অবস্থান কী। একদিনে কিন্তু মৌসুমী তৈরি হননি। মৌসুমীর কোনো প্যারালাল নেই। শাবানা ম্যাডামের পর ইন্ডাস্ট্রিতে যিনি এসেছেন, তিনি মৌসুমী। এটা আল্লাহপ্রদত্ত গুণ। এমন একজন গুণী মানুষ আমার সহশিল্পী।’

গুজব ছড়াতে এআই দিয়ে ছবি বানানোর অভিযোগ তুলে ধরে মানহানি মামলার হুঁশিয়ারিও দেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন,
‘এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে আমাদের হাজবেন্ড-ওয়াইফ বানিয়ে সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে। বন্ধুরা ফোন করে জানতে চাইছে আমাদের সম্পর্ক কেমন, আত্মীয়রা জিজ্ঞেস করছে আমি মৌসুমীকে বিয়ে করেছি কিনা! কী একটা পরিস্থিতি!’

তিনি আরও যোগ করেন,
‘এসব ভিউ দিয়ে টাকা বানিয়ে কী করবেন? ভালো নিউজ করেন, মানুষকে উৎসাহ দেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিদেশ থেকেও এসব ছড়ানো হচ্ছে। আমি শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করব। আজকের পর এমন নিউজ বা ভিডিও ছড়ালে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করব—সাইবার সুরক্ষা আইনে।’

এই গুজব নিয়ে মৌসুমীর স্বামী, অভিনেতা ওমর সানীর প্রতিক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন হাসান জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন,
‘নিন্দুকের কথা নিয়ে আর কী বলব? এই বয়সে এসে কি আবার বিয়ে করা যায়? তাছাড়া ওমর সানী ভাইয়ের সঙ্গে আমার দারুণ আন্ডারস্ট্যান্ডিং। কিছুদিন আগেই তাকে নিয়ে একটি ওয়েব সিরিজ করেছি। আমাদের সম্পর্ক অনেক দিনের, পারিবারিক সম্পর্কও আছে।’

টেলিফিল্মটির জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে হাসান জাহাঙ্গীর বলেন,
‘যে প্রোডাকশনটা আমেরিকার মতো জায়গায় এত রেসপন্স পেয়েছে, মানুষ ওখানেও মুখে মুখে গল্প বলছে। নাটকটা একটা বার্তা দেয়—স্বামী স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার পর তার পরিণতি কী হয়। গল্পটা দর্শকরা পছন্দ করেছে। আমেরিকায় অনএয়ার হয়েছে, দেশের জিটিভিসহ আরও তিনটি চ্যানেলেও প্রচার হয়েছে।’

 

Walton Ads