বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি বরাবরই স্পষ্টভাষী। পর্দায় যেমন তাকে শক্তিশালী চরিত্রে দেখা যায়, বাস্তব জীবনেও অন্যায় আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে লিঙ্গ বৈষম্য ও পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রানি স্পষ্ট করে বলেন, সামাজিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা হলো নিজের ঘর। তার মতে, একজন মানুষ কীভাবে সমাজে আচরণ করবে, তার ভিত্তি তৈরি হয় পরিবার থেকেই।

রানি বলেন, একজন নারী সমাজে কতটা সম্মান পাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে সেই পরিবারের পুরুষ সদস্যদের আচরণের ওপর। তার ভাষায়, ‘আমি বিশ্বাস করি সম্মান শুরু হয় নিজের ঘর থেকেই। যখন একজন ছেলে তার বাবাকে মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখে, তখন তার মনে এই ধারণা তৈরি হয়—মায়ের সঙ্গে যদি এমন ব্যবহার করা যায়, তাহলে সব মেয়ের সঙ্গেই তা করা সম্ভব।’

পুরুষদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রানি আরও বলেন, ‘বাড়িতে স্ত্রীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তার দায় পুরুষদেরই নিতে হবে। কারণ ছেলেরা এই পরিবেশ দেখেই বড় হয়। পরিবারে যদি মাকে সম্মান দেওয়া হয়, তবেই একটি ছেলে বুঝতে শিখবে সমাজে নারীদের মর্যাদা কতটা।’

পারিবারিক কলহ ও উচ্চবাচ্য নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এই অভিনেত্রী। রানি বলেন, ‘সব শিক্ষার শুরু আসলে ঘর থেকেই। একজন পুরুষের কখনোই তার স্ত্রীর ওপর অকারণে চিৎকার করা উচিত নয়। বরং একজন নারীরই উচিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের কণ্ঠ তুলতে শেখা।’

স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণ করে হালকা মজার ছলে রানি বলেন, ‘স্কুলে পড়ার সময় আমি শুধু একজন ছেলেকেই চড় মেরেছিলাম, বাকিরা সবাই ছিল আমার বন্ধু। এসব কথা শুনে আবার আমার স্বামীকে—আদিত্য চোপড়াকে—জিজ্ঞেস করতে যেও না, বাড়িতে প্রতিদিন আমার সঙ্গে কী হয়!’

 

Walton Ads