কখনও মমতাময়ী মা, কখনও আদরের বোন, আবার কখনও দুষ্টু-মিষ্টি দাদিমা—এই সব রূপেই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী ফরিদা জালাল। প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেও নিজের দক্ষতা আর অভিনয়গুণে তিনি হয়ে উঠেছেন ইন্ডাস্ট্রির এক অপরিহার্য মুখ।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবন নিয়ে কথা বলেন এই অভিজ্ঞ অভিনেত্রী। সেখানে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের সাফল্যের চেয়েও তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজের মাধ্যমে পাওয়া সম্মান।

ফরিদা জালাল বলেন,
“আমি সবসময় একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সীমা অতিক্রম না করেও আমি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। এখনো কাজ করছি, দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছি। তাহলে কি আমাকে সফল বলা যায় না?”

টাকা উপার্জনের চেয়ে নীতি ও সম্মানের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি আরও বলেন,
“ভালো বা খারাপ—সব পথেই টাকা উপার্জন করা যায়। কিন্তু সম্মান আর মর্যাদা সহজে পাওয়া যায় না। এর জন্য অনেক ত্যাগ করতে হয়।”

নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া দুই নির্মাতা করণ জোহর ও আদিত্য চোপড়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, “দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে” এবং “কুছ কুছ হোতা হ্যায়”-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো তার ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন,
“আদিত্য চোপড়া খুবই প্রতিভাবান, আর করণ জোহর আমার ছেলের মতো। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে এত গুরুত্বপূর্ণ কাজের সুযোগ দিয়েছেন। যদিও এখন মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাকে আরও বেশি কাজ দেওয়া হলে ভালো হতো।”

ফরিদা জালালের বিশ্বাস, এই দুটি সিনেমা আজও দর্শকের মনে বেঁচে আছে এবং থাকবে চিরকাল।

শুধু সিনেমা নয়, টেলিভিশনেও নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। “দেখ ভাই দেখ” ও “শরারাত”-এর মতো জনপ্রিয় সিরিয়াল এবং সাম্প্রতিক সময়ের “হীরামান্ডি” ওয়েব সিরিজেও তিনি প্রমাণ করেছেন—চরিত্র ছোট হলেও অভিনয় দিয়ে আকাশছোঁয়া সম্মান অর্জন করা সম্ভব।

 

news