ভারতে বর্ষা মৌসুমে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত, কৃষি উৎপাদন নিয়ে আশঙ্কা

ভারতে চলতি বর্ষা মৌসুমে ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশেষ আবহওয়াগত অবস্থা এল নিনোর প্রভাবে চলতি বছরের আগস্ট মাস ছিল দেশটিতে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক মাস। এতে দেশটিতে কৃষি উৎপাদন বেশ ব্যাহত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। 

ভারতে ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পানি এবং জলাধার ও জলাশয়গুলো পুনরায় পূরণ হতে সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের ৭০ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত বর্ষাকালেই হয়ে থাকে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটির প্রায় অর্ধেক কৃষি জমি এখনো সেচ সুবিধার বাইরে রয়েছে। যার কারণে কৃষি উৎপাদনের জন্য ভারতে মৌসুমী বৃষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ভারতের প্রধান প্রধান পণ্য যেমন চিনি, ডাল, চাল ও শাকসবজি আরও ব্যয়বহুল হতে পারে এবং সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।

চাল, গম এবং চিনির মতো পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে ভারত। তাই বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে নিজেদের নিম্ন কৃষি উৎপাদন ভারতকে এই পণ্যগুলোর রপ্তানির ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানায়, চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টিপাত হয়েছে দীর্ঘ-সময়ের গড় বৃষ্টিপাতের ৯৪ শতাংশ। যা ২০১৮ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন। এছাড়া বর্ষায় বৃষ্টিপাত হয়েছে অনিয়মিত। বর্ষার আগমন দেরিতে হওয়ায় জুনে গড় হারের চেয়ে বৃষ্টিপাত নয় শতাংশ কম হয়েছে, কিন্তু জুলাইয়ে আবার গড় হারের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে গড় হারের চেয়ে বৃষ্টিপাত ৩৬ শতাংশ কম হওয়ায় আগস্ট ছিল গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের রেকর্ডে সবচেয়ে শুষ্কতম। 

বর্ষাকালে বৃষ্টির এই অনিয়মিত বর্ষণ বিশ্বের বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারতকে চালের রপ্তানি সীমিত, পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং ডালের শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিতে বাধ্য করেছে। এমনকি চিনি রপ্তানিও নিষিদ্ধ করতে পারে নয়াদিল্লি।

Walton Ads