ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, লাঠি ও ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করেছে। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সোমবার (১০ আগস্ট) হাজার হাজার যুবক রাজ্যের বিধানসভার দিকে মিছিল করলে এই ঘটনা ঘটে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডের পুলিশ সুপার পারস রানা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের কিছু অংশ সহিংস হলে স্বল্প পরিসরে মৃদু বল প্রয়োগ করা হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের কাছে তাঁদের দাবি পৌঁছেছে, তাই সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী এক শিক্ষার্থী ও তাঁর পাঁচ সহযোগী অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।

গত ২৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ চলতি মাসের শুরুতে রাঁচির একটি স্টেডিয়ামে সমাবেশের পর আরও তীব্র হয়। সোমবার বিধানসভা অভিমুখে মিছিলে বাধা দিতে পুলিশ ব্যারিকেড স্থাপন করে। তবে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে, জাতীয় পতাকা নিয়ে ও স্লোগান দিয়ে সেসব অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তিতে জড়ালে কাঁদানে গ্যাস, ওয়াটার ক্যানন ও লাঠি ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

কর্মসংস্থান সঙ্কট ও প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিচ্ছবি

ঝাড়খণ্ড, ভারতের অন্যতম দরিদ্র রাজ্য, যেখানে বেকারত্ব ও প্রশাসনিক অনিয়ম দীর্ঘদিনের সমস্যা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা এই অসন্তোষকে আরও উসকে দিয়েছে। শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, প্রতিবেশী ও অন্যান্য রাজ্যেও চাকরিপ্রার্থীরা প্রশাসনিক দুর্নীতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী দিল্লিতেও অনুরূপ বিক্ষোভ চলছে, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার যুবক অংশ নিয়েছেন। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গত মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই বিক্ষোভগুলো ভারতের যুবসমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশার প্রকাশ, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও সীমিত কর্মসংস্থানের প্রতিফলন।

কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রশ্নে এই বিক্ষোভ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। ঝাড়খণ্ডের বর্তমান শাসকদল আঞ্চলিক দল হলেও তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধী। বিক্ষোভের মুখে রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠক করেছে এবং বেশিরভাগ দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, ফেডারেল পুলিশ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

শিক্ষা ও চাকরি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন ভারতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও, আন্দোলনকারীরা তাদের মূল দাবি——পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, কিছু পরীক্ষা বাতিল এবং ফেডারেল পুলিশ তদন্ত——অক্ষুণ্ন রেখেছেন। সামনের দিনগুলোতে এই বিক্ষোভ আরও বিস্তৃতি পেতে পারে কিনা, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Walton Ads