অসমে ভয়াবহ বন্যায় গৃহহীন ৪৩ লাখ মানুষ, মৃত ৭৩, পানির তলায় ৫ হাজারেরও বেশি গ্রাম

ভারতের অসমে ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত ৭৩ জন প্রাণ হারিয়েছে, এবং গৃহহীন হয়েছে ৪৩ লাখ মানুষ। একইসঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে ৫ হাজার ৪২৪ টি গ্রাম।

রাজ্যটিতে একটানা প্রবল বৃষ্টির ফলে বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। একইসঙ্গে হাজার হাজার একর জমিতে আবাদ করা ফসলও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ৭০০টিরও বেশি ত্রাণ শিবির স্থাপন করা হয়েছে। হোজাই এলাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানিতে দ্রুত মাটি ক্ষয় হওয়ায় এতে রেললাইন পানিতে তলিয়ে গেছে।

একটি সরকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুরুতর রোগী, বয়স্ক নারী এবং শিশু সহ কমপক্ষে ৪৫০০ আটকে পড়া স্থানীয় মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে সাহায্য করার জন্য সেনা সদস্যরা ত্রাণ শিবিরগুলোতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করছেন। যাতে মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের জীবনও বাঁচানো যায়।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ঘন্টার মধ্যে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর বিভিন্ন জায়গায় বজ্রঝড়/বজ্র/ভারী বৃষ্টিপাতসহ ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত  থাকতে পারে এবং তারপরে বর্ষার তীব্রতা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অসমের কাছাড় জেলায় অবিরাম বৃষ্টির পর ভূমিধসের কারণে ধ্বংসস্তূপে আটকে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্যে প্রকাশ, ঘটনাটি কাছাড় জেলার বোরাখাই চা বাগান এলাকার। যেখানে শনিবার রাতে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে পাহাড়ের একটি বড় অংশ একটি বাড়ির ওপর দিয়ে ধসে পড়ে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়।   

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল (সোমবার) অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাথে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে শিগগিরি একটি কেন্দ্রীয় দল রাজ্যে যাবে। উত্তর-পূর্ব রাজ্যটি গত একসপ্তাহ ধরে বিধ্বংসী বন্যার কবলে পড়েছে। এরফলে ৩৬টি জেলার মধ্যে ৩৩টিতে কমপক্ষে ৪৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসমে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে গত ৭ দিনে ৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া কমপক্ষে ৫,৪২৪ টি গ্রাম পানিতে ডুবে রয়েছে।।খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২২/একে news