চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে শত শত মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) অভিযোগ ক্রমেই ঘনিভূত হচ্ছে। ভারতীয় সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন ও নিজ দেশের সাংবিধানিক নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই এই কৌশল গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন মানবাধিকার ও শরণার্থী আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। এর মধ্যেই ভারতের গুজরাট থেকে ২৫০ জনকে বিমানযোগে উত্তর-পূর্ব ভারতে এনে সীমান্তে পাঠানো হয়েছে। এদের অনেককেই রাতের আঁধারে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী নন্দিতা হাকসার বলছেন, ভারত রিফিউজি কনভেনশন স্বাক্ষরকারী না হলেও, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, দেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তিরই ন্যূনতম অধিকার রয়েছে, তা তারা বিদেশি হলেও।
অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া প্রধান মীনাক্ষী গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, এই পুশ ইন পদ্ধতিতে কোনো ধরনের পরিচয় যাচাই ছাড়াই মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, যাদের সবাই বাংলাভাষী মুসলিম—যা ভারতের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত পদক্ষেপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, এটি একটি কৌশলগত বার্তা—ঢাকা যদি দিল্লির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কে কঠোর হয়, তাহলে ভারতের এই প্রতিক্রিয়া আসবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের এ ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত সরকারের নীরবতা ও পুশ ইন নীতির বিস্তৃতি এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।
