বিহার সংকটে নীতীশ কেন যোগাযোগ রাখছেন সনিয়া, রাহুলের সঙ্গে
সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi)সঙ্গে গত কয়েকদিনে একাধিকবার কথা হয়েছে নীতীশ কুমারের। প্রতিবারই ফোন করেছেন নীতীশই (Nitish Kumar)। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেছেন রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গেও।
সূত্রের খবর, জেডিইউ-র (JDU) সঙ্গে জোট সরকার গড়ার ব্যাপারে এই দফায় লালুপ্রসাদ এখনও পর্যন্ত খুব একটা উৎসাহ দেখাননি। আপত্তিও তোলেননি। মাস কয়েক আগে লালুপ্রসাদের (Lalu Prasad Yadav) পাটনার বাড়িতে আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীর দেওয়া ইফতার পার্টিতে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার যোগ দেওয়ার পর লালুর দুই পুত্র বড় মুখ করে বলেছিলেন, বিহারে অচিরেই তৈরি হবে ‘চাচা-ভাতিজা সরকার’। নীতীশকে চাচা অর্থাৎ কাকা সম্মোধন করে থাকে লালুপ্রসাদ-রাবড়িদেবীর ছেলেমেয়েরা। রাঁচির জেলে আটক লালুপ্রসাদ কিন্তু সব সম্ভাবনায় তখন জল ঢেলে দেন।
সূত্রের খবর, যত দ্রুত সম্ভব বিজেপির সঙ্গ ছাড়তে প্রস্তুত নীতীশ কংগ্রেস সভানেত্রীকে ধরেছেন দুটি কারণে। এক. আরজেডি-র সঙ্গে জোট সরকার গড়তে লালুপ্রসাদকে ময়দানে নামাতে রাজি করান। বিবৃতি দিন লালুপ্রসাদ। দুই. নীতীশকেই জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী রাখতে লালুপ্রসাদকে রাজি করান সনিয়া।
পাটনার খবর, লালুপ্রসাদের দল ২০১৫-র মতো এবারও নীতীশের সঙ্গে হাত মেলাতে প্রস্তুত। তবে তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী করার শর্তে। গতরাতে রাবড়িদেবী সেই কথা বলেও দিয়েছেন ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের। আর এখানেই প্যাঁচে পড়েছেন নীতীশ। দলের চাপে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি হাতছাড়া করতে নারাজ তিনি।
তবে একটি ফরমুলা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। তা হল, চলতি সরকারের বকেয়া তিন বছর মুখ্যমন্ত্রীর পদ ভাগাভাগি করে চালানো। সেক্ষেত্রেও লালুর দলের ফরমুলা, প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি তাদের দিতে হবে।
সনিয়া, রাহুলদের সঙ্গে নীতীশের পাশাপাশি লালুপ্রসাদেরও সম্পর্ক মধুর। জানা গিয়েছে, নীতীশের প্রস্তাবের ব্যাপারে সনিয়া কিংবা রাহুল কেউই তাঁকে কথা দেননি। কারণ, লালুপ্রসাদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চান না কংগ্রেস সভানেত্রী। প্রথমত, বিজেপি বিরোধী শিবিরের ধর্মনিরপেক্ষ নেতা হিসাবে লালুপ্রসাদের ট্র্যাক রেকর্ডের ধারে কাছে নেই কোনও নেতা। দ্বিতীয়ত, সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বিজেপি এবং শরদ পাওয়ার সহ কংগ্রেসের একাংশ যখন বিদেশিনী ইস্যু তুলে তাঁকে রাজনীতিতেই আসতে দিতে চাইছিল না, তখন লালুপ্রসাদই প্রথম যিনি রাজীব পত্নীর পাশে দাঁড়ান। বলেছিলেন, সনিয়া বিদেশিনী হলে লালকৃষ্ণ আদবানির মতো অনেকেই বিদেশি। প্রসঙ্গত, আদবানির জন্ম লাহোরে। স্বভাতই লালুপ্রসাদ অসন্তুষ্ট হতে পারেন, এমন কোনও বিষয় নিয়ে এগোতে চান না তাঁরা।
তবে হাল ছাড়েননি নীতীশ। গতকালও তিনি সনিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এনডিএ-তে থাকলেও কংগ্রেসের গান্ধী পরিবারের সঙ্গে নীতীশের দোস্তি কখনও চিড় খায়নি। বস্তুত, নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বের বিরোধিতা করে ২০১৩-তে নীতীশ এনডিএ ছাড়লে রাহুল গান্ধী চেয়েছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে মোদীর বিরুদ্ধে ইউপিএ-র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করতে। সে যাত্রায় নীতীশের হাত ধরে বিহারে তাঁর সরকার বাঁচিয়ে দিলেও লালুপ্রসাদ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার প্রস্তাবে সায় দেননি। সেবারও লালুর আপত্তির কারণেই এগোননি সনিয়া, রাহুল।খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২২/একে