গেহলট রাজি, দলেও সফল হওয়ার পথে সনিয়ার ‘মনমোহন মডেল’

 রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) এখনও রাজি করানো যায়নি। অন্যদিকে, নিমরাজি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট (Ashok Gehlot) অবশেষে রাজি হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি (Congress President) পদে প্রার্থী হতে। বুধবার দিল্লিতে সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে দেখা করার কথা তাঁর।

আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে কংগ্রেস সভাপতি পদে মনোনয়ন পেশ। গত পরশু সনিয়ার সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের মুখ তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী তারুর। এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে গেহলট ও শশীর মধ্যে লড়াই হবে। তবে, বিভিন্ন প্রদেশ কংগ্রেস রাহুল গান্ধীকে ফের কংগ্রেস সভাপতি করার পক্ষে প্রস্তাব পাশ করিয়ে একটি রাস্তা পরিস্কার করে রেখেছে, রাহুল রাজি না হলে গান্ধী পরিবারের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত।
এদিন দিল্লি পৌঁছে অশোক গেহলট বলেন, দল চাইলে আমি সভাপতি পদে অবশ্যই প্রার্থী হব। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব রাহুল গান্ধীকে রাজি করাতে।

মন্দিরের বিগ্রহ ছুঁয়ে ফেলার অপরাধ! দলিত পরিবারকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করল গ্রামবাসীরা
কংগ্রেসের সব পক্ষই চেয়েছিল, রাহুল রাজি না হলে সনিয়াই থেকে যান সভাপতি পদে। কিন্তু অসুস্থ সনিয়া আর কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নিতে চাইছেন না।
এই পরিস্থিতিতে গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে সভাপতি করার প্রশ্নে সনিয়া, রাহুলদের প্রথম পছন্দ গেহলট। তাঁকে সভাপতি করে দল পরিচালনায় এবার মনমোহন মডেল প্রতিষ্ঠা করতে চান সনিয়া, রাহুলরা। অর্থাৎ খাতায় কলমে গেহলট সভাপতি থাকবেন। তিনি চলবেন গান্ধী পরিবারের ইশারায়।

ঠিক যেভাবে, ২০০৪ সালে ইউপিএ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে সনিয়া ওই পদে বসান মনমোহন সিংকে। তার পরের ইতিহাস সকলের জানা। দু’টি ইউপিএ সরকারে মনমোহনকে প্রধানমন্ত্রী পদে রেখে রিমোট কন্ট্রোলে সরকার চালান সনিয়া, রাহুলরা।
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী গেহলট প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মতো রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ না হলেও গান্ধী পরিবারের অন্ধ অনুগত। তিনি কংগ্রেস সভাপতি হলে আকবর রোডে এআইসিসির সদর দফতরের রাশ ১০ নম্বর জনপথের বাসিন্দা সনিয়ার হাতেই থাকবে। অতীতে একাধিক ইস্যুতে দেখা গিয়েছে, গেহলট রাম ভক্ত হনুমানের মতো গান্ধী পরিবারের পাশে থেকেছেন।
গেহেলট দলীয় সভাপতি হলে রাজস্থানের অঙ্কও কংগ্রেসের জন্য সুবিধাজনক হয়। গেহলটকে সভাপতি করা হলে এক ঢিলে দুই লক্ষপুরণ সম্ভব। এক, গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে সভাপতি করা হল। দুই, একজন ওবিসি নেতা কংগ্রেসের সভাপতি হবেন। এক ওবিসি নেতা সীতারাম কেশরিকে সরিয়েই ১৯৯৮ সালে সভাপতি হয়েছিলেন সনিয়া। তাঁর জায়গায় আবার একজন ওবিসি নেতাকেই ফেরাতে চলেছেন তিনি। কারণ, বিজেপি ক্রমশ দলিত, ওবিসি অঙ্কে রাজনীতি সাজাচ্ছে।

অন্যদিকে, গেহলটের জায়গায় রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী করার ভাবনা যাঁকে সেই শচীন পাইলটও ওবিসি গুর্জর। ফলে মুখ্যমন্ত্রী বদলেও থাকবে ওবিসি অঙ্ক। 
আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচন করে ফেলার কথা। আগামী বছরের নভেম্বরে রাজস্থানে বিধানসভা ভোট। সনিয়ার ফর্মুলা হল, গেহলট মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দলের হাল ধরুন। অন্যদিকে, শচীন পাইলটকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিক প্রদেশ কংগ্রেস।

কিন্তু সমস্যা ছিল, গেহলট রাজ্য ছাড়ার ব্যাপারে মোটেই আগ্রহী ছিলেন না। যদিও প্রতি মাসে এক দু’বার করে দিল্লিতে এআইসিসি দফতরে হাজির থাকেন তিনি। কিন্তু রাজস্থানকেই রাজনীতির প্রধান কর্মভূমি করে তুলেছেন প্রবীণ এই নেতা। আসলে সভাপতি হওয়ার পর দলের বাকিদের থেকে কতটা সমর্থন পাবেন তা নিয়ে গেহলটও সন্দিহান।
দলের বড় অংশ মনে করে, গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে এই মুহূর্তে সভাপতি পদে মেনে নেওয়া সহজ হবে না। আবার বিজেপির ‘কংগ্রেস মানে গান্ধী পরিবার’ প্রচারকেও উপেক্ষা করতে পারছে না দল।
দু’টি লোকসভা ভোটে হার, রাজ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও কংগ্রেসের প্রথমসারির নেতাদের মধ্যে সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন নেই, যা আছে রাহুলকে নিয়ে। কিন্তু সনিয়ার বিকল্প হিসাবে তাঁদের বেশিরভাগের পছন্দ আবার রাহুলই। সব মিলিয়ে গান্ধী পরিবারের প্রতি আস্থার প্রশ্নে কংগ্রেসের সিংহভাগ একজোট। কিন্তু জানা যাচ্ছে কংগ্রেস সভাপতি পদে আর নিজের ইনিংস দীর্ঘায়িত করতে চান না রাহুল-প্রিয়াঙ্কার মা’ও।

খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২২/একে news