গণৎকার’ রুবিনি বলছেন, কুৎসিত মন্দা আছড়ে পড়বে এ বছরই, তাই টাকা ধরে রাখুন


২০০৮ সালে যে বিশ্বজনীন মন্দা আছড়ে পড়বে তার পূর্বাভাস অনেক আগেই দিয়েছিলেন তিনি। সেই পূর্বানুমান এতটাই সঠিক ছিল যে অনেকেই তাঁকে বলেন গণৎকার, কেউ বা বলেন ডক্টর ডুম। সেই প্রবাদপ্রতিম অর্থনীতিবিদ নোরিয়েল রুবিনি (Economist Nouriel Roubini) ফের ভয় পাওয়ার মতো অর্থনৈতিক পূর্বাভাস (Economic Crisis) জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ ও কুৎসিত মন্দা আছড়ে পড়তে চলেছে আমেরিকা সহ গোটা বিশ্বে। এ বছর শেষ দিক থেকে সেই মন্দা শুরু হবে। তা চলবে গোটা ২০২৩ সাল ধরে। 

রুবিনির আশঙ্কা, আসন্ন এই মন্দা এতটাই মারাত্মক হবে যে বহু বড় কর্পোরেট, ব্যাঙ্ক, প্রাইভেট ইক্যুইটি, ক্রেডিট ফান্ড ইত্যাদির ভরাডুবি হতে পারে। শুধু তাই নয়, মন্দাগ্রাসে ডুববে বহু দেশ! তাঁর চাঁচাছোলা ও রুক্ষ কথায়, “আমরা সবাই দেখতে পাব কে কে নগ্ন হয়ে সাঁতার কাটছে!” সেই সঙ্গে তিনি এ বলেও সতর্ক করেছেন যে, ১৯৭০ সালের মতো স্ট্যাগফ্লেশনের পরিস্থিতি আসতে চলেছে। স্ট্যাগফ্লেশন হল এমন একটা পরিস্থিতি যখন দেশের আর্থিক বৃদ্ধি ঝিমিয়ে থাকে। রুবিনির মতে, এই কুৎসিত মন্দার বাজারের ঋণ জর্জর হয়ে ভেঙে পড়তে পারে প্রচুর আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালেও এমন হয়েছিল। আর সেই মন্দার জেরে ভারতেই কাজ হারিয়েছিলেন কয়েক লক্ষ মানুষ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ কর্মীর বেতন ছাঁটাই হয়েছিল। বহু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছিল। ভারতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেগুলেশন ব্যবস্থা মজবুত বলে তবু কিছুটা রক্ষে ছিল। তা ছাড়া মনমোহন সিং সরকার কিছু স্টিমুলাস প্যাকেজও ঘোষণা করেছিল সেবার। তবে রুবিনি জানাচ্ছেন, এই মন্দা স্বল্পকালীন হবে না। তাই সরকারের স্টিমুলাস ফান্ড এই মন্দার ঢেউ আটকাতে পারবে না। বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ না বাড়িয়ে টাকা ধরে রাখা। মুদ্রাস্ফীতির কারণে সেই টাকা কতটা ধরে রাখা সম্ভব তা নিয়েও অবশ্য সন্দেহ রয়েছে। 
আবার ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে সমস্যা হল, মন্দাগ্রাস থেকে দেশকে বের করতে আর স্টিমুলাস দেওয়ার মতো টাকাও সরকারের নেই। কোভিড তা অনেকটাই শুষে নিয়েছে।

ম্যাক্রো অ্যাসোসিয়েটসের চেয়ারম্যান নোরিয়েল রুবিনি ২০০৮ সালের মন্দার যে উপসর্গগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিলেন, বাস্তবে তা হুবহু মিলে গেছে। এবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আসন্ন মন্দা যদি ভ্যানিলা রিসেশন তথা খুব সাদামাটা হয় তা হলেও স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর-৫০০ –র সূচক ৩০ শতাংশ পড়ে যাবে।

রুবিনি ওই সাক্ষাৎকারে পষ্টাপষ্টি বোঝাতে চেয়েছেন, এই মন্দা ঠেকাতে আমেরিকা হিমশিম খেয়ে যাবে। শ্যাম রাখি না কুল রাখির মতো অবস্থা হবে তাদের। তা ছাড়া বোঝার উপর শাকের আঁটি মতো দাঁড়াবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কোভিড নিয়ে চিনের কঠোর অবস্থান। তাতে বৃদ্ধির দর আরও কমবে। তাই সতর্ক থাকতে হবে এখন থেকেই।

খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২২/একে news