গোটা হুগলি জেলাই যেন ডেঙ্গির হটস্পট! ৫ বছরে ৭ গুণ সংক্রমণ বাড়ার কারণ কী


 হুগলিতে রীতিমতো হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ (Dengue in Hooghly)। পরিস্থিতি এমনই, গোটা হুগলি জেলাই যেন ডেঙ্গির হটস্পট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জায়গায় এলাকার বাসিন্দাদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
জেলায় স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে হুগলিতে ডেঙ্গি আক্রান্তের গ্রাফ এ বছরেই সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৮ সালে ৭৮৫ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে ২৪৭৫ জন। এর পরে ২০২০ সালে ডেঙ্গি হয় ২০০ জনের, ২০২১ সালে ৩৩৯ জনের। কিন্তু ২০২২ সাল শেষ হওয়ার আগেই এই বছর এই জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭২৪-এ! 
এর কারণ কী?
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের মতে, আগে এই জেলায় ডেঙ্গি পরীক্ষা করানোর জন্য ল্যাব ছিল মাত্র একটি।এখন তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই পরীক্ষা অনেক বেড়েছে। তার উপর গত দু’বছর করোনার জন্য ডেঙ্গি পরীক্ষায় তেমন জোরই দেওয়া হয়নি। এবছর সরকারি প্রচার এবং ডেঙ্গি নিয়ে ভয় মানুষকে সচেতন করেছে। জ্বর হলেই অনেকে রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছেন, তাই ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যাও এতটা বেড়েছে একধাক্কায়। 
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্য দফতরের। হুগলি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রমা ভুঁইয়া বলেন, আদতে হুগলি জেলার গোটাটাই এখন হটস্পট। অতি সতর্ক থাকতে হবে উত্তরপাড়ার ১৫, ১৯, শ্রীরামপুরের ১৪, ১৬, ১৭, ১৯, ২৫, রিষড়ার ১১, ১৪, ১৬, বৈদ্যবাটির ৫, ১১, ডানকুনির ১২ এবং ভদ্রেশ্বর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। 
এছাড়াও গ্রামীণ এলাকা, চণ্ডীতলার মশাট, মগড়ার দেবানন্দপুর, পোলবার রাজহাট ও সুগন্ধা, বলাগড়ের শ্রীপুর ও জিরাট, শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া ব্লকের কানাইপুর ও রিষড়া, খানাকুল ২-এর চিংড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারাও বিপদের মুখে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার পাঁচটি বড় হাসপাতালে ডেঙ্গি পরীক্ষার জন্য ২৪ ঘণ্টার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সিএমওএইচ জানিয়েছেন, ডেঙ্গি হলে বিশেষ কিছু চিকিৎসা নেই। জ্বর হলে তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করাতে হবে। ডেঙ্গি ধরা পড়লে বিশ্রামে থাকা, বেশি করে জল খাওয়া, লিকুইড খাবার খাওয়া জরুরি। 
তবে প্রশাসনের সূত্রে অভিযোগ, ডেঙ্গি বৃদ্ধি ঠেকাতে মানুষের সচেতনতারও বেশ অভাব রয়েছে। বাড়িতে বা বাড়ির আশপাশে ছোট জায়গায় দিন কয়েক জল জমে থাকলেই সেখানে মশা ডিম পাড়ে। সেটা আটকাতে হবে, জল কোনও ভাবেই জমিয়ে রাখা যাবে না। এইটুকু করতে যদি সকলে উদ্যোগী হন, তাহলেই ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত অনেকটা রুখে দেওয়া যাবে।

খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২২/একে

news