গুজরাটে মুসলিম ভোট বিভাজন হলে সুবিধা পেতে পারে বিজেপি

ভারতের গুজরাটে অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিমরা কাকে সমর্থন করবে, তা নিয়ে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। ১৮২ আসন সমন্বিত গুজরাটে আগামী ১ ও ৫ ডিসেম্বর রাজ্যটিতে দুই পর্বে ভোটগ্রহণ করা হবে। ফল ঘোষণা হবে ৮ ডিসেম্বর।

গুজরাটে এবার ‘আম আদমি পার্টি’ (আপ) মাঠে নামায় সেখানে বিজেপি-কংগ্রেস-আপ, অর্থাৎ ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি’র ‘মিম’দলও কিছু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

রাজ্যে ৯ থেকে ১০ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছে। ৩০ টিরও বেশি বিধানসভা আসন রয়েছে যেখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ১৫ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে ২০টিতে এই সংখ্যা ২০ শতাংশের বেশি। গুজরাটে প্রায় ১০ শতাংশ মুসলমান রয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, জনসংখ্যার নিরিখে রাজ্য বিধানসভায় কমপক্ষে ১৮ জন মুসলিম বিধায়ক হতে পারে। কিন্তু গুজরাটের কোনো বিধানসভায় মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা সাত জন ছাড়িয়ে যায়নি। ২০১৭ সালে তিনজন মুসলিম প্রার্থী  জিতেছিলেন এবং বিধায়ক হয়েছিলেন। তিনজনই কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন। অন্যদিকে, ২০১২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র দু’জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন।

চলতি নির্বাচনে রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ৬ জন মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে। আম আদমি পার্টি তিনজন মুসলিম মুখকে প্রার্থী করেছে। মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) ৩০ টি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে। ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত তারা ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন মুসলিম।  

মুসলিম ভোট প্রসঙ্গে সাংবাদিক বীরাঙ্গ ভাট বলেন, ‘গত নির্বাচনে মুসলিম ভোটাররা কংগ্রেসের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। এবার ‘আম আদমি পার্টি’র (আপ)  আগমনে এবারের লড়াই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যেসব আসনে ‘মিম’ প্রার্থী দিয়েছে সেখানে প্রতিযোগিতা আরও আকর্ষণীয় হতে পারে। কিন্তু এভাবে মুসলিম ভোটে বিভাজন হলে তার সুফল পেতে পারে বিজেপি।’রাজ্যটিতে ১০ টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনে ২০১২ এবং ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কখনও বিজেপি এবং কখনও কংগ্রেস দলের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।  

জামালপুর খাদিয়া একমাত্র আসন, যেখানে মুসলিম ভোটার ৫০ শতাংশের বেশি। এই আসনে ৬১ শতাংশ মুসলিম ভোটার। ২০১২ সালে এখানে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়ে ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে ওই আসনে কংগ্রেস জয়ী হন।  

দানিলিমদা আসনে ৪৮ শতাংশ মুসলিম ভোটার। ২০১২ সালে আসনটি কংগ্রেসের দখলে ছিল। ২০১৭ সালের নির্বাচনেও কংগ্রেস ওই আসনটি ধরে রাখতে সমর্থ হয়।  

দরিয়াপুর আসনে মুসলিম ভোটার ৪৬ শতাংশ। ২০১২ এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনে এখানে কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল।  

ওয়াগরা আসনে ৪৪ শতাংশ মুসলিম ভোটার। এখানে ২০১২  এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল।    

ভারুচ আসনে ৩৮ শতাংশ মুসলিম ভোটার। ২০১২ এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনে এখানে বিজেপি জিতেছিল।

বেজালপুর আসনে ৩৫ শতাংশ মুসলিম ভোটার। ২০১২ এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনে এখানে বিজেপি জিতেছিল।  

জম্বুসর আসনে ৩১ শতাংশ মুসলিম ভোটার। এখানে ২০১২ সালে বিজেপি জিতলেও ২০১৭ সালের নির্বাচনে জয়ী হয় কংগ্রেস দল।    

বাপুনগর আসনে ২৮ শতাংশ মুসলিম ভোটার। ২০১২ সালে এখানে বিজেপি জিতলেও ২০১৭ সালে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস।

লিম্বায়াত আসনে মুসলিম ভোটার ২৬ শতাংশ। এখানে ২০১২ এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। 
খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২২/একে news