ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আবার চরমে। একদিকে ভারতের নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর কট্টর হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে তার পাল্টা জবাব দিতে ছাড়ল না পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। রোববার (১৭ মে) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলে, ‘একটি সার্বভৌম পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেওয়া চরম কাণ্ডজ্ঞানহীনতা ও পাগলামি।’

এত উত্তেজনার কারণ কী? গত শনিবার (১৬ মে) দিল্লির মানেকশ সেন্টারে ‘ইউনিফর্ম আনভেইলড’ অনুষ্ঠানে ভারতের সেনাপ্রধানকে প্রশ্ন করা হয়, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো পরিস্থিতি ফিরে এলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কী করবে? জবাবে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ‘পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত তৎপরতা চালায়, তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে— তারা বিশ্বের ভূগোলে থাকতে চায়, নাকি ইতিহাসের পাতায় বিলীন হয়ে যেতে চায়।’

এই মন্তব্যের পরেই বাজ পড়ে ইসলামাবাদে। আইএসপিআর জানায়, এ ধরনের উসকানি দক্ষিণ এশিয়াকে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আট দশক পেরিয়ে গেলেও দিল্লির নীতিনির্ধারকেরা পাকিস্তানের অস্তিত্বের ধারণা মেনে নিতে পারেনি। তারা অতীত থেকে কোনো শিক্ষাও নেয়নি।

পাকিস্তান আরও সতর্ক করে জানায়, যদি কেউ একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে, তাহলে তার পাল্টা সামরিক জবাব হবে সমমানের ও ব্যাপক। ইসলামাবাদের ভাষ্য, এই ধরনের আগ্রাসন শুরু হলে ধ্বংসযজ্ঞ কখনো একতরফা হবে না। তা দু’দেশের জন্য এবং গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অপূরণীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পারমাণবিক শক্তি প্রতিবেশীর মধ্যে বাড়তে থাকা কথার লড়াই এখন আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

 

news