মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সুচি এখনও বেঁচে আছেন—এই দাবি যথেষ্ট নয়। এবার সরাসরি প্রমাণ চাইলেন তাঁর ছেলে কিম আরিস। গত ৩০শে এপ্রিল জান্তা সরকার একটি ছবি প্রকাশ করেছিল, যেখানে সুচিকে দেখা যায় কাঠের বেঞ্চে বসে দু’জন ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন। কিন্তু সেই ছবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

কিম আরিস বলছেন, ‘এ পর্যন্ত আমার মায়ের জীবিত থাকার কোনো নিরপেক্ষ বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ সোমবার বৃটিশ পার্লামেন্টের সামনে সমর্থকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ দেখানোর দাবি জানান।

২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে সুচিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সর্বশেষ আদালতে হাজিরার ছবি দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালের মে মাসে।

কিম আরিস ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কেউ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ দিতে পারেনি যে আমার মা বেঁচে আছেন।’ তিনি আরও বলেন, ৮১ বছর বয়সী এই নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীকে এক গোপন স্থান থেকে আরেক গোপন স্থানে সরিয়ে রাখা ‘বন্দি’ করারই নামান্তর।

এক ভিডিও বার্তায় কিম আরিস জানান, ‘আমরা একটি সহজ কিন্তু জরুরি কারণে এখানে জড়ো হয়েছি—আমরা জানতে চাই, আমার মা বেঁচে আছেন কি না।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সাধারণ ক্ষমার আওতায় সুচিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি করা হয়। জান্তা জানায়, তিনি নির্দিষ্ট একটি বাসায় বাকি সাজা ভোগ করবেন। কিন্তু সেই ঠিকানা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এই ক্ষমার আওতায় ১৫০ জনের বেশি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র বলেছেন, সুচির অবস্থান পরিবর্তনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে কিম আরিসের দাবি, ‘এটি স্বাধীনতা নয়, বরং তাকে আরও বন্দি করে রাখা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সুচিকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সেনাবাহিনী এভাবে তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চাইছে।

 

news