মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এক রহস্যময় মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী টুইশা শর্মা নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর কিছু মর্মস্পর্শী চ্যাট ও মেসেজ। তাতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে তাঁর মানসিক যন্ত্রণা, বিষণ্ণতা আর শ্বশুরবাড়িতে আটকে পড়ার বেদনা।

গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় স্বামী সমর্থ সিংহের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় টুইশার মরদেহ। তিনি এমবিএ গ্র্যাজুয়েট ছিলেন এবং বিয়ের আগে দিল্লির একটি করপোরেট সংস্থায় চাকরি করতেন। ২০২৪ সালে ডেটিং অ্যাপে আইনজীবী সমর্থ সিংহের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে হয় তাদের।

মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে (৭ মে) এক বান্ধবীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে টুইশা লেখেন, ‘আমি প্রচণ্ড উদ্বেগের মধ্যে আছি, সারাদিন ঘরে বসে থাকি। নিজের মতো কিছু করতে চাই। বিয়ে একটা পরিবার দেয় ঠিকই, কিন্তু নিজের জন্য কাজ করা বন্ধ করা যাবে না।’

তিনি বান্ধবীকে সতর্ক করে লেখেন, ‘বিয়ের ভূত মাথায় করলে চলবে না। খুব ভেবেচিন্তে পা বাড়াস। আপাতত এটুকুই বলব।’ বান্ধবী চিন্তিত হয়ে খোঁজ নিলে টুইশা লেখেন, ‘আমি ঠিক আছি। শুধু বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে, তোর কথা মনে পড়ে।’

ইনস্টাগ্রামের আরেক চ্যাটে টুইশার বার্তা ছিল আরও ভয়ংকর। তিনি লেখেন, ‘আমি পুরোপুরি ফেঁসে গেছি ভাই। তুই শুধু ফাঁসিস না। এখন বেশি কথা বলতে পারব না, সুযোগ বুঝে ফোন করব।’

এসব চ্যাট প্রকাশ পেতেই প্রশ্ন উঠেছে—এটা কি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত খুন? টুইশার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘ঝুলে থাকার’ কথা বলা হলেও পরিবার দাবি করছে, এটি হত্যাকাণ্ড।

টুইশার মরদেহ গত পাঁচ দিন ধরে ভোপাল এইমসের মর্গে পড়ে আছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করছেন তাঁর পরিবার। বাবা নবনিধি শর্মা বলছেন, ‘পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে।’

অভিযোগ করা হয়েছে, যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যার। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী বলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্ত দল (সিআইটি)। তবে পরিবার চায়, দিল্লির এইমস হাসপাতালে পুনরায় ময়নাতদন্ত হোক।

 

news