রেভস্পোর্টস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে পুরুষদের ক্রিকেটে ৪২টি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে মহিলাদের ক্ষেত্রে শুধু একটি টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়েছে। ২০২৬ সালে এখনও মাত্র একটি মহিলা টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ইংল্যান্ড এবং ভারতের মধ্যে জুলাই মাসে লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচটি হবে লর্ডসের প্রথম মহিলা টেস্ট ম্যাচ এবং ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন ন্যাট স্কাইভার-ব্রান্ট লর্ডসে টেস্ট দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রথম মহিলা হিসেবে।
টেস্ট ক্রিকেটকে সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ফরম্যাট হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে ধৈর্য, প্রযুক্তি, মনোভাব এবং কৌশলগত সচেতনতা যাচাই হয়। কিন্তু রেভস্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে সুযোগের অভাব একটি বড় সমস্যা। পুরুষদের মতো মহিলাদের জন্য কোনো শক্তিশালী লাল-বলের ডোমেস্টিক কাঠামো নেই। পুরুষরা রানজি ট্রফি, কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ বা শেফিল্ড শিল্ডের মতো টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নেয়, যেখানে মহিলারা মূলত টি২০ এবং ওডিআই খেলায় সীমাবদ্ধ।
বিশ্বের ১২টি আইসিসি ফুল মেম্বার দেশের মধ্যে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে মহিলা টেস্ট ক্রিকেট খেলে না। নিউজিল্যান্ড ২০০৪ সালের পর থেকে মহিলা টেস্ট খেলছে না। ফলে মহিলা ক্রিকেটাররা লাল-বলের খেলার অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত। এর ফলে যখন ম্যাচ ড্র হয় বা ব্যাটিংয়ে পতন ঘটে, তখন তাদের দক্ষতার অভাব নিয়ে সমালোচনা হয়, যদিও তারা লাল-বলের খেলার যথাযথ অভিজ্ঞতা পায় না।
মহিলা ক্রিকেটের টেস্ট ম্যাচের অভাবের কারণে ঐতিহ্যও গড়ে ওঠেনি। যেখানে পুরুষ ক্রিকেটে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি, দ্য অ্যাশেজ এবং অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, সেখানে মহিলাদের ক্রিকেটে এরকম কোনো ধারাবাহিক ও ঐতিহ্যবাহী সিরিজ নেই। রেভস্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বা দুই বছরে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলা যথেষ্ট নয়, কারণ এটি খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জন ও লাল-বলের বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ দেয় না।
মহিলা ক্রিকেটারদের টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ দেওয়া এবং উন্নত ডোমেস্টিক লাল-বলের কাঠামো গড়ে তোলা খুবই জরুরি। নইলে টেস্ট ক্রিকেটকে খেলার সর্বোচ্চ ধাপ বললে, মহিলাদের জন্য এটি কেবল প্রতীকী গুরুত্বেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই পরিস্থিতি পয়েন্ট টেবিল ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্বকে প্রভাবিত করছে। আগামী ইংল্যান্ড-ভারত টেস্ট ম্যাচটি মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। নিয়মিত টেস্ট সিরিজ না থাকায় মহিলাদের ক্রিকেটে ঐতিহ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।