ভারতের টি-২০ ক্রিকেট দলের মাঝারি ও নিম্ন ক্রম সংকট দিন দিন বাড়ছে, যা সাম্প্রতিক সিরিজে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রেভস্পোর্টস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পাঁচটি টি-২০ ম্যাচে ভারত চারটি হারে সম্মুখীন হয়েছে, যার মধ্যে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের ম্যাচে মাত্র ৭৬ রানে অলআউট হওয়া সবচেয়ে হতাশাজনক। এই পারফরম্যান্সে ভারতের মিডল অর্ডার ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং হার্ডিক পান্ড্যার অনুপস্থিতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
ভারতীয় ক্রিকেট দল, যার অধিনায়কত্বে শ্রেয়াস আযর সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, আইরিশদের বিরুদ্ধে সিরিজে প্রথমবারের মতো পরাজিত হয়েছে এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয় (১২৫ রানের ব্যবধানে) ভোগ করেছে। এই সিরিজের বিভিন্ন ম্যাচে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম ম্যাচে অভিষেক শর্মা ৪৯ রান করে ভালো সূচনা দিলেও, অন্য ব্যাটসম্যানরা সমর্থন জানাতে ব্যর্থ হন।
আইরিশদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে তিলক বর্মা সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন, কিন্তু তার ধীরগতির (স্ট্রাইক রেট ১১৯) ব্যাটিং এবং স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে অসফলতা প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া, ভারতীয় ব্যাটিংয়ে আর্শদীপ সিং এবং হর্ষিত রানা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা যথেষ্ট ছিল না। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে অভিষেক শর্মা (৫৯) ও শ্রেয়াস আযর (৬৮) ভালো ইনিংস খেললেও, দল ১৮৯ রানে থেমে যায়, যা প্রেডিক্টেড স্কোরের তুলনায় কম।
৫ম টি-২০ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত মাত্র ৭৬ রানে অলআউট হয়, যেখানে ওপেনারদের ২৩ রানের পার্টনারশিপ ছাড়া মিডল অর্ডার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভারতের মিডল ও লোয়ার অর্ডারের দুর্বলতা স্পষ্ট করছে, বিশেষ করে হার্ডিক পান্ড্যার অনুপস্থিতিতে।
ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান টুইটে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতীয় দলের মিডল অর্ডারে বামহাতি ব্যাটসম্যানদের আধিক্য এই সংকটের একটি কারণ। তিলক বর্মার অবদান নিয়ে সমালোচনা উঠেছে, এবং ইশান, অক্ষর ও ডুবের মত খেলোয়াড়রা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি।
মোটের উপর, ভারতীয় টি-২০ দলের মিডল ও লোয়ার অর্ডারে ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মকতা না থাকার কারণে দলে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে, যা শ্রীয়াস আযরের অধিনায়কত্বের শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ভারতের মিডল ও লোয়ার অর্ডারের দুর্বলতা পয়েন্ট টেবিলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দলকে পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলছে। এই সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভারতের টি-২০ দলের ভবিষ্যত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মিডল অর্ডারের শক্তিশালী পারফরম্যান্স জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।