রেভস্পোর্টস জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা এবং ইজিপ্টের বিশ্বকাপ ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত পুরো ফুটবল বিশ্বকে বিভক্ত করেছে। এই ম্যাচটি আটলান্টার মেরসিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের VAR ব্যবহারে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত সমালোচনার মুখে পড়েন।
এই ম্যাচে ইজিপ্টের মোস্তাফা জিকো গোল করেন বলে মনে করলেও VAR সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়ে যায়, কারণ আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বিরুদ্ধে একটি ফাউল হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যদিও ইজিপ্ট পরে গোল করার মাধ্যমে ৩-০ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত, কিন্তু সেই সুযোগ হারিয়ে যায়। ম্যাচ শেষে ইজিপ্ট ২-১ হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।
রেফারির ওই সিদ্ধান্তে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইজিপ্টের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, রেফারির আচরণ ছিল পক্ষপাতমূলক এবং এই ম্যাচে VAR ব্যবহারে অসঙ্গতি ছিল। বিশেষ করে মোহামেদ সালাহর উপর পেনাল্টি না দেয়ার বিষয়টি বিতর্ক উসকে দেয়। হাসান ফিফার উপরও অভিযোগ করেন যে, বড় দলগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়াও, বিশ্বচেস চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাস্পারভ ফিফার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এই ম্যাচে বড় তারকাদের পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন। ইজিপ্ট ফুটবল ফেডারেশন ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে লেটেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে।
ম্যাচ শেষে ইজিপ্টের খেলোয়াড়রা দুঃখ প্রকাশ করেন, মোহামেদ সালাহ সহ সবাই দলের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেন। এই বিতর্ক শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলে প্রভাব ফেলেছে এবং ইজিপ্টের বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি ঘটিয়েছে। আগামী ম্যাচগুলোর পূর্বাভাস এবং বিশ্বকাপের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা ফুটবল প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।