মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের অবসানের ইঙ্গিত
ইরান ও সৌদি আরব গত শুক্রবার তাদের মধ্যকার সম্পর্ক পুণপ্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়। দু’দেশের বৈরিতার কারণে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মধ্যে পড়েছিল। এবং ইয়েমেন থেকে সিরিয়া পর্যন্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। আরব দেশগুলো ইরান-সৌদি এ সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। একে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের অবসানের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন একজন বিশেষজ্ঞ।
চীনের মধ্যস্থতায় বেইজিংয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দু’শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরান ও সৌদি আরবের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে চার দিনব্যাপী আলোচনার পর এ কূটনৈতিক সাফল্য আর্জিত হয়। তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে ব্যাপকভিত্তিক সমঝোতা হয়। তারা পরস্পরের রাজধানীতে ৭ বছর পর দূতাবাস খুলতে সম্মত হয়। এ ছাড়া পরস্পরের স্বার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও একে অপরের আভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে সম্মত হয়।
২০১৬ সালে একজন শিয়া আলেমকে সৌদিতে মৃত্যুদন্ড দেযা হয়। এ ঘটনায় তেহরানে সৌদি আরবের দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর দু’দেশের পরস্পরের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। ২০১৯ সালে সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলার রিয়াদ তেহরানকে দোষারোপ করে। ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে।
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সীমান্তের ওপারে সৌদি ভূখন্ডে হামলা চালায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এ ঘটনায় ২০২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার ঘটনা ঘটে। ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক অশোক সইন বলেছেন, ‘ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুণরুজ্জীবনে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটতে যাচ্ছে। জেরুজালেমে ইসরয়েলের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের সাথে সৌদি আরবের সমঝোতা দেশটির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা ব্যাহত হবে না।’
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ সমঝোতাকে সংলাপ ও শান্তির জন্য একটি বিজয় বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বেইজিং কঠিন আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন কিরবি বলেন, সৌদি আরব এ আলোচনা সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করেছে। তবে তারা এর সাথে সরাসরি জড়িত নয়।
জো বাইডেনের মানবাধিকার ও ইয়েমেন যুদ্ধ সম্পর্কিত নীতি, রাশিয়া ও ওপেক সম্পর্ক এবং ওপেকের তেল উৎপাদন নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। সৌদি-চীন সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটে। তিন মাস আগে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সৌদি আরব সফর করেন।
কয়েকটি আরব দেশ ইরান-সৌদি সম্পর্ক পুণ:প্রতিষ্ঠার ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়েছে। মিসর, ইরাক, কাতার ও ওমানের কর্মকর্তারা পৃথক পৃথক বিবৃতিতে দুদেশের মধ্যকার সমঝোতাকে স্বাগত জানায়। রয়টার্স জানায়, জেরুজালেমে ইসরয়েলের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের সাথে সৌদি আরবের সমঝোতা দেশটির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা ব্যাহত হবে না। তবে চীনের মধ্যস্থতার এ সমঝোতার ব্যাপারে ইসরায়েল সরকারের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স জানায়, জেরুজালেমে ইসরয়েলের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের সাথে সৌদি আরবের সমঝোতা দেশটির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা ব্যাহত হবে না। তবে চীনের মধ্যস্থতার এ সমঝোতার ব্যাপারে ইসরায়েল সরকারের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ক্যাপশন বেইজিং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইএর সঙ্গে ইরান ও সৌদি শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী শামখানি ও মুসাদ বিন মোহাম্মাদ আল-আইবান।
এনবিএস/ওডে/সি