জাপোরিজঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বড় ধরনের হামলার ছক কষছে রাশিয়া

 ইউক্রেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা অধিদপ্তর এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, রাশিয়ার এই হামলা হবে অনেক ব্যাপক। জাপোরিজঝিয়া বর্তমানে রাশিয়ার দখলেই রয়েছে। ইউক্রেন চেষ্টা করছে হাত ছাড়া হয়ে যাওয়া ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের জন্য। তাই দু’পক্ষেরই সামরিক তৎপরতা বাড়ছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় ইউক্রেনের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইউরোপে সবচেয়ে বড়। এই এলাকায় দু’দেশই ব্যাপক শেলিং করেছে এবং এখানে বিপজ্জনক হামলার জন্য দুই পক্ষই দুই পক্ষকে দোষারোপ করেছে।

ইউক্রেনের পাল্টা হামলার কথা বিবেচনায় রেখে মনে করা হচ্ছে, সামরিক উত্তেজনার মধ্যে জাপোরিজঝিয়া এলাকায় বড় ধরনের একটা পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। শুক্রবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ‘রাশিয়ানরা জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রে দুর্ঘটনার নিকটতম ঘন্টাগুলিতে ব্যাপক উস্কানি ও অনুকরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

রুশ বাহিনীর উপর পাল্টা হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা অনেকটাই অর্জন করেছে ইউক্রেন বাহিনী। তারা পশ্চিমা অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উঠছে ক্রমশ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের মিত্ররা দেশটিকে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ইউক্রেন ডিফেন্স কন্টাক্ট গ্রুপ নামে বহুজাতিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সহায়তা দেয়া হয়েছে।

রুশ গণমাধ্যম আরটির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এই তথ্য জানিয়েছেন। ইউক্রেন ডিফেন্স কন্টাক্ট গ্রুপের বৈঠকে এ তথ্য জানান লয়েড অস্টিন।

আটলান্টিক সাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর ৩১ সদস্য ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশই ইউক্রেন ডিফেন্স কন্টাক্ট গ্রুপের সদস্য। গোষ্ঠীটির বৈঠকে অস্টিন জানান, ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদে কিয়েভের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  

বৈঠকে লয়েড অস্টিন বলেন, ‘গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন যে, এফ-১৬ সহ চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান চালনা শিখতে ইউক্রেনীয় পাইলটদের প্রশিক্ষণের যৌথ প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে যাবে। আমরা আশা করছি, আসন্ন যেকোনো সপ্তাহে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে যাবে।’

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads