ক্রিমিয়ার সেতুতে বিস্ফোরণে নিহত ২, যান চলাচল বন্ধ

ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সাথে রাশিয়াকে স্থলপথে সংযুক্তকারী একমাত্র পথের ওপর সড়ক ও রেল সেতুটি অবস্থিত। এটি হল ইউরোপের বৃহত্তম সড়ক ও রেল সেতু। সেখানে বিস্ফোরণ ঘটার পর রাশিয়ার নিযুক্ত ক্রিমিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘জরুরি’ পরিস্থিতির কারণে রাশিয়ার তৈরি সেতটিুতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারা জানান, বিস্ফোরণে একটি শিশু আহত হয়েছে। ইউক্রেনীয় মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুতে বিস্ফোরণ ঘটার খবর দিয়েছে।

বিস্ফোরণে সেতুর ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। রাশিয়ার বেলোগোরোদ অঞ্চলের গভর্ণর ভাইয়াচেস্লাভ গ্লাডকভ বলেছেন, সেতুতে হতাহতরা হলেন এক দম্পতি ও তাদের মেয়ে। বাবা-মা মারা গেছেন। শিশুটি ইনসেন্টিভ কেয়ারে আছে।

খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপের বৃহত্তম এই সেতুটি ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ক্রিমিয়ার রাশিয়ার নিযুক্ত গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ বলেছেন, সেতুর ১৪৫ নাম্বার স্তম্ভে জরুরি ঘটনা ঘটে। এর বাইরে তিনি বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানাননি। তবে বার্তাসংস্থা আরবিসি-ইউক্রেন জানিয়েছে, এই সেতুতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

রাশিয়ার গ্রে জোন চ্যানেল ওয়াগনার ভাড়াটে গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুতে সোমবার ভোর ৩টা ৪ মিনিটে এবং ৩টা ২০ মিনিটে দু’টি হামলা হয়েছে। 

১২ মাইল (১৯ কিলোমিটার) দীর্ঘ এই সড়ক ও রেল সেতুটি গত বছরের অক্টোবরেও একটি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্রেমলিন সেসময় বলেছিল, ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা বাহিনী ওই হামলা চালিয়েছিল। অবশ্য কয়েক মাস পর ইউক্রেন পরোক্ষভাবে ওই হামলার কথা স্বীকার করে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক ইনস্টিটিউট স্ট্যাডি অব ওয়ার এর বিশ্লেষক জর্জ বারোস বলেছেন, সেতুটির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এতে রাশিয়ার সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। 

ক্রিমিয়ার গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ এবং ক্রাসনোদর অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনড্রাটিয়েভ বলেছেন, সেতুতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তাদের উভয় অঞ্চলেই অপারেশনাল সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। ক্রিমিয়া উপদ্বীপের রাশিয়া সমর্থিত প্রশাসন বাসিন্দাদের সেতু দিয়ে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে।

 ২০১৪ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দ্বীপের দখল নেয় রাশিয়া। পরে এই দ্বীপের সাথে রাশিয়ার সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য দীর্ঘ ১৯ কিলোমিটার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ক্রিমিয়া দ্বীপ দখলে নেওয়ার চার বছর পর ২০১৮ সালে সেতুটিকে রাশিয়ার পরিবহন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মহা ধুমধাম করে সেটির উদ্বোধন করেছিলেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে এই সেতু রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক সরবরাহ রুটে পরিণত হয়েছে। কারণ ইউক্রেনের দক্ষিণের খেরসন অঞ্চলে রুশ সৈন্যদের কাছে অস্ত্র ও সামরিক রসদ পাঠানোর অন্যতম পথ এই সেতুটি। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়। তবে এটি এখনও আন্তর্জাতিকভাবে ইউক্রেনের অংশ হিসাবে স্বীকৃত।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads