রাশিয়া ও চীনসহ ২৯টি দেশ মিলিত হয়ে শাংহাই ভিত্তিক 'ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন' (WAICO) গঠন করেছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) নিরাপদ, ন্যায়সঙ্গত ও মানবকল্যাণমুখী ব্যবহারের নীতিমালা নির্ধারণ করবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শাংহাইয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠা চুক্তিতে ২৯টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে আফ্রিকার ১০টি এবং এশিয়ার ১২টি দেশসহ বেলারুস, সার্বিয়া, কিউবা, ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলা অন্যতম। বিশ্বসংস্থার সাধারণ সম্পাদক আন্তোনিও গুতেরেসও স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী WAICO জাতিসংঘের নীতিমালা অনুসরণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নকে মানুষের কল্যাণে নিয়ন্ত্রণ করবে।
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি গ্রিগোরেঙ্কো বলেন, "আমরা সর্বদা স্বচ্ছ নিয়মের প্রতিষ্ঠার পক্ষে, যা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।" WAICO গ্লোবাল AI গভর্নেন্সে কাজ করবে যাতে প্রযুক্তি নিরাপদ এবং সবার জন্য উপকারী হয়। রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্ব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্সে বলেন, "AI উন্নয়ন একক দেশের কাজ নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সিম্ফনি।" কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিভিন্ন ঝুঁকি দেখা দিয়েছে যেমন কর্মসংস্থানের ক্ষতি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন, ও সামরিক ব্যবহারের সম্ভাবনা। পশ্চিমা দেশগুলো AI প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকলেও WAICO একটি মানুষের কেন্দ্রীয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক মডেল প্রচার করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাশাপাশি চীন AI গবেষণায় দ্রুত অগ্রসর হয়েছে এবং প্রযুক্তির ওপেন সোর্স ও সাশ্রয়ী সংস্করণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, আমেরিকা চীনের প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার সীমিত করতে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা চীনের নিজস্ব AI চিপ ও প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নে ত্বরান্বিত করেছে। রাশিয়া নিজস্ব AI ভাষাগত মডেল যেমন YandexGPT ও Alisa AI তৈরি করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসকদের সহায়তা করছে। WAICO-র মাধ্যমে এই দেশগুলো AI-র নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেবে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবকল্যাণ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। WAICO-এর মাধ্যমে রাশিয়া ও চীনের নেতৃত্বে গঠিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থা AI-র নিয়ন্ত্রণে নতুন যুগের সূচনা করবে যা প্রযুক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য রোধ করে বৈশ্বিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করবে। এটি AI-র সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলা, প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার এবং গ্লোবাল গভর্নেন্সে জাতিসংঘের নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, প্রযুক্তির সামরিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগ বিশ্বশান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে।