রাশিয়া এই জুলাই মাসেও ভারতের তেলের আদি সরবরাহকারী হিসেবে অব্যাহত থাকবে, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, জুন মাসে ভারতের কাঁচা তেলের অর্ধেকের বেশি রাশিয়ার কাছ থেকে এসেছে, এবং জুলাইতে এই প্রবণতা আরও বাড়বে।
আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ সত্ত্বেও, ভারতের দেশীয় তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলি রাশিয়ার তেল সংগ্রহে তৎপর রয়েছে। দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ে ভারতের মোট তেল আমদানির পরিমাণ ৫ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিনের উপরে উঠবে, যার মধ্যে প্রায় ২.৬ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ার কাছ থেকে আসবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মেয়াদ জুনের মাঝামাঝি শেষ হলেও, ভারতের তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ হরমুজ সট্রেইটের নিরাপত্তা সংকটের কারণে, যা মার্কিন ও ইসরায়েলি অভিযানের পর তৈরি হয়েছে, ভারতের রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা আরও বাড়েছে।
আগামী আগস্টেও একই প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এই মাসের জন্য প্রথমার্ধের সরবরাহ চুক্তিগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, মার্কিন সিনেটরদের একটি দল একটি বিল পেশ করেছে, যার মাধ্যমে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা পাঁচটি শীর্ষ দেশ – যার মধ্যে ভারত ও চীনও রয়েছে – তাদের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। বিলটির লক্ষ্য হলো রাশিয়ার শক্তি বিক্রয় থেকে রাজস্ব কমিয়ে ইউক্রেন সংকটের সমাধানে চাপ সৃষ্টি করা।
বিলটি প্রাক্তন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রবর্তন করেছিলেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও পেয়েছে। তবে, এই বিল জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়ামের মতো মার্কিন মিত্রদের জন্য বিশেষ শুল্ক অব্যাহতি রেখেছে, যা শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
চীন ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, যদি এই নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়, তবে তারা তাদের ব্যবসায়িক ও নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবে। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে রাশিয়ার বিকল্প সরবরাহকারী পাওয়া কঠিন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কপলার সংস্থার রিফাইনিং ও মডেলিং বিভাগের প্রধান বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন-কে বলেছেন, “ভারতের কাছে রাশিয়ার তেলের বিকল্প নেই যা একই পরিমাণ, নির্ভরযোগ্যতা ও আর্থিক সুবিধা দিতে পারে।”
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
রাশিয়ার ওপর ভারতের তেলের নির্ভরতা আন্তর্জাতিক শক্তি বাজারে ভারসাম্য ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা অবস্থায় ভারত তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করে চলেছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কূটনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের সরবরাহ চেইনে এই পরিবর্তনগুলি আন্তর্জাতিক মন্দার সঙ্গে লড়াই ও শক্তির নতুন বিন্যাসের সূচনা করতে পারে।