জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ স্বীকার করেছেন, রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কারণেই দেশটি দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, জ্বালানি খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং শিল্প উৎপাদনের ব্যয়বৃদ্ধির পেছনে এ কারণেই জার্মান অর্থনীতি বর্তমানে সংকটগ্রস্ত।

বিশ্বের অন্যতম শিল্পশক্তি হিসেবে খ্যাত জার্মানি, ২০২২ সালে সস্তা রাশিয়ান গ্যাস আমদানি বন্ধ করে দেয় এবং জ্বালানি উৎপাদনে নিউক্লিয়ার শক্তি ধাপে ধাপে বাদ দিয়ে নবায়নযোগ্য উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। এর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং শক্তি-নির্ভর শিল্পখাতের পতন দ্রুততর হয়। মের্জের মতে, ইউক্রেন সংকট, চীনের চ্যালেঞ্জ, এবং রাশিয়ান গ্যাসের অভাব জার্মানির এ সংকটের মূল কারণ।

মস্কো বারবার জানিয়েছে যে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত, কিন্তু বার্লিন থেকে এখনও কোনো সাড়া মেলেনি। অন্যদিকে, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। জার্মানির গ্যাস আমদানির ৫৫% ছিল রাশিয়া থেকে, যা এখন নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে, এবং আমেরিকার তরলীকৃত গ্যাস (LNG) এর অংশও বেড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ান গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর সিদ্ধান্তে দৃঢ়, ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে আমদানি বন্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, গ্যাসের ঘাটতি বা বিদ্যুৎ সমস্যার মুখে পড়লেও এই পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা হবে না।

অর্থনীতির দিক থেকে, জার্মানির অর্থনীতি ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে ধারাবাহিক সংকোচনের মুখোমুখি হয়েছে, যা গত দুই দশকে প্রথম। কর্পোরেট দেউলিয়া বেড়েছে এবং উৎপাদন খাত বিশেষত অটোমোবাইল সেক্টর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশাল কোম্পানি যেমন BASF, Bosch, Volkswagen সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা বন্ধ করেছে এবং কর্মসংস্থান কমিয়েছে।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

জার্মানির এই জ্বালানি সংকট কেবল দেশটির শিল্প ও অর্থনীতির জন্য নয়, বরং ইউরোপীয় মহাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও সংকেত বহন করে। রাশিয়ান গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প উৎসের সন্ধান করায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। এ সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জার্মানির শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি, গ্লোবাল এনার্জি মার্কেটে এর প্রভাব থেকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মূল্য ওঠানামা অব্যাহত থাকবে।

Walton Ads