মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৫০টি দেশের নাগরিকদের ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (B1 এবং B2) নেওয়ার সময় ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। শুক্রবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পরীক্ষামূলক কর্মসূচির সফলতা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নোটিশে বলা হয়েছে, 'পরীক্ষামূলক কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে বন্ডধারী ভিসাধারীদের বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছে'। আগামী ৩ আগস্ট এই নিয়ম কার্যকর হবে, যেদিন এটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ।
যে ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই বিধি প্রযোজ্য হবে, তাদের মধ্যে ৩০টি আফ্রিকার দেশ। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর তালিকা এখনও প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নিতে পারতেন। নতুন নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই নীতির উদ্দেশ্য ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে না যাওয়ার প্রবণতা কমানো। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই বিধি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণে বাধা সৃষ্টি করবে এবং অনেক ভ্রমণকারী এই অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপের কারণে ভিসা আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার যে নীতি গ্রহণ করেছেন, তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পটভূমি
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করে একের পর এক কঠোর বিধি প্রবর্তন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ভিসার জন্য নতুন এবং ব্যয়বহুল ফি আরোপ, আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই, এবং কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বন্ড কর্মসূচি মূলত সেই সব দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে যাদের দেশে ফিরে না যাওয়ার হার বেশি, যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশের নাম প্রকাশ করেনি। এই নীতি আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা।