চিনের একটি জাহাজ ক্রমেই শ্রীলঙ্কার দিকে এগিয়ে চলেছে। ভারতের উপগ্রহ চিত্রে এমনটাই ধরা পড়েছে। জানা গিয়েছে, চিনের ওই জাহাজটি আগস্টের মধ্যে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশ করবে। ভারত সরকার জানিয়েছে, উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, আগামী মাসেই চিনের এই জাহাজটি শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে প্রবেশ করবে। চিনা জাহাজের প্রতি মুহূর্তের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে বলে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে।

যদিও ভারতের দাবি অস্বীকার করেছে শ্রীলঙ্কা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এ মুখপাত্র জানিয়েছে চিনা জাহাজের শ্রীলঙ্কার বন্দরে প্রবেশের কোনও সম্ভাবনা নেই। যদিও বিদেশ মন্ত্রকের তরফে চিনকে সাবধান করা হয়েছিল। আগামী মাসে চিনের একটি জাহাজ শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে প্রবেশ করে বলে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে। মহাকাশ ও স্যাটেলাইট ট্রেকিংয়ের সঙ্গে জড়িত চিনের এই জাহাজটি সম্পর্কে নয়াদিল্লি সতর্ক করছে। জানানো হয়েছে, ভারত ওই জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনও খবর আমাদের কাছে নেই।

কলম্বো ভিত্তিক সংস্থা বিআরআইএসএল (বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ শ্রীলঙ্কা) ভারতের দাবি স্বীকার করেছে। বিআরআইএসএল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, জাহাজটির নাম ইউয়ান ওয়াং ৫। এই জাহাজটি চিনের জিয়ানইং বন্দর থেকে ১৩ জুলাই যাত্রা করেছে। তাইওয়ানের পাশ দিয়ে জাহাজটি বর্তমানে পূর্ব চিন সাগরে অবস্থান করছে। ১১ আগস্ট শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে নোঙর ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই জাহাজটি থেকে মূলত ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশে মহাকাশ গবেষণা ও উপগ্রহ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণার কাজ চালানো হচ্ছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাহাজটি শ্রীলঙ্কার বন্দরে অবস্থান করবে এবং গবেষণার কাজটি চলবে। ইউয়ান ওয়াং ৫ জাহাজটি যখন হাম্বানটোটা বন্দরে প্রবেশ করবে, শ্রীলঙ্কার স্থানীয় মানুষ মহাকাশ বিকাশের একাধিক কর্মসূচি শিখতে পারবে। বিআরআইএসএল গত সপ্তাহে তাদের প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে। জানানো হয়েছে, এটা কোনও সামরিক জাহাজ নয়। পাশাপাশি আগস্ট থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার স্থানীয় বাসিন্দারা কী কী কোর্স করতে পারবেন মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী জানিয়েছেন, বিআরআইএসএল-এর ওয়েসাইটে প্রকাশ করা প্রতিবেদনটি তাঁরা দেখেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা স্পষট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর প্রভাব পড়ে এমন কোনও উন্নয়নকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভারত নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। চিনের কাছে ভারত এই বার্তা পৌঁছে দিতে চায়। প্রসঙ্গত, আগে একাধিকবার শ্রীলঙ্কা তাদের বন্দর চিনকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার

Walton Ads