ইন্টারনেটে হইচই ফেলে দিয়েছে একটা ভিডিও—মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড রোবট, হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে গুলি চালাচ্ছে! অনেকে বলছেন, চীন এবার সত্যি সত্যি রোবট সৈন্য বানিয়ে সেনাবাহিনীতে ঢোকাচ্ছে। ভবিষ্যতের যুদ্ধে মানুষের বদলে রোবট লড়বে—এমন দাবিও উঠেছে জোরেশোরে।

ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, চীনের রোবট কোম্পানি ইউনিট্রি তৈরি করেছে এই রোবট। সামরিক প্রশিক্ষণে লাইভ ফায়ারিং পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে যেন সায়েন্স ফিকশন মুভির দৃশ্য!

কিন্তু সত্যি কী? ইলন মাস্কের এআই গ্রোক নিজেই এই ভিডিও নিয়ে বিশ্লেষণ করে বলেছে—এটা বাস্তব নয়! গ্রোকের সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “এই ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি বা বানোয়াট বলে মনে হচ্ছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত চীনের সেনাবাহিনীতে ইউনিট্রি হিউম্যানয়েড রোবটের লাইভ ফায়ার পরীক্ষার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।”

আসল ইউনিট্রি রোবটগুলোর প্রদর্শনী হয়েছে সাধারণ কাজে—উৎসব, অনুষ্ঠানে নাচ-গান বা বেসামরিক কাজে। অতীতে চার পায়ের রোবট সামরিক পরীক্ষায় দেখা গেলেও মানুষের মতো হিউম্যানয়েড রোবট সৈন্যের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এর আগেও এমন ভাইরাল দাবি এসেছে। যেমন—চীন নাকি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় এআই রোবট দিয়ে টহল দিচ্ছে। পরে যাচাই করে দেখা গেছে, বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত বা মিথ্যা। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে প্রায়ই এমন বিভ্রান্তি বা ইচ্ছাকৃত প্রচারণা ছড়ানো হয়।

চীন অবশ্য আলাদা করে জানিয়েছে—তারা সীমান্তে ভিড় নিয়ন্ত্রণ বা সহায়তার মতো বেসামরিক কাজে হিউম্যানয়েড রোবট পরীক্ষা করছে। শেনজেনের ইউবিটেক রোবোটিকস ভিয়েতনাম সীমান্তে ‘ওয়াকার এস২’ নামের উন্নত হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের চুক্তি করেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উন্মোচিত এই রোবটকে বলা হচ্ছে বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট, যেটা নিজেই নিজের ব্যাটারি বদলাতে পারে!
তাই ভিডিও দেখে ভয় পাওয়ার দরকার নেই—এখনও রোবট সৈন্যের যুগ আসেনি। কিন্তু প্রযুক্তির দৌড় যে কত দ্রুত, সেটা তো সত্যি!

 

Walton Ads