ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার উদ্দেশ্যে দীর্ঘ বছর ধরে তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক হ্যাক করে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে ইসরায়েল—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Financial Times-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
বর্তমান ও সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরা বছরের পর বছর ইসরায়েলি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ট্রাফিক ক্যামেরা থেকে তেল আবিবে সরাসরি ফুটেজ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হ্যাক করা ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ এনক্রিপ্ট করে তেল আবিব ও দক্ষিণ ইসরায়েলের সার্ভারে পাঠানো হতো। বিশেষ করে তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিটের কাছে খামেনির কম্পাউন্ডের আশপাশের ক্যামেরাগুলো থেকে দেহরক্ষীদের গাড়ির অবস্থান এবং তাদের দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো।
এভাবেই ধাপে ধাপে তৈরি করা হয় খামেনির নিরাপত্তা বলয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র।
‘প্যাটার্ন অফ লাইফ’—বিশাল ডাটাবেস তৈরি
ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ‘প্যাটার্ন অফ লাইফ’ নামে একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে খামেনির নিরাপত্তা রক্ষীদের ব্যক্তিগত ঠিকানা, ডিউটির সময় ও চলাচলের পথ নিয়ে বিশাল একটি ডাটাবেস তৈরি করেছিল।
এই কাজে অংশ নেয় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ইউনিট ৮২০০। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বিলিয়ন তথ্য বিশ্লেষণে জটিল গাণিতিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়।
হামলার আগে মোবাইল টাওয়ার বিচ্ছিন্ন
হামলার আগ মুহূর্তে পাস্তুর স্ট্রিটের কাছের প্রায় ডজনখানেক মোবাইল টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বিঘ্নিত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এতে খামেনির নিরাপত্তা দলের সদস্যরা কোনো ধরনের সতর্কবার্তা গ্রহণ করতে পারেননি।
একজন ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা এফটিকে বলেন, ‘আমরা জেরুজালেমকে যতটা চিনি, তেহরানকেও ঠিক ততটাই চিনতাম।’
উপস্থিতি নিশ্চিতেও প্রযুক্তির ভরসা
এফটি-র তথ্যমতে, হামলার দিন সকালে খামেনি ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা কম্পাউন্ডে উপস্থিত আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে হ্যাক করা ক্যামেরা ও মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করেছিল ইসরায়েল। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকেও একজন গোপন সূত্রের মাধ্যমে খামেনির উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
এই প্রতিবেদনের তথ্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রযুক্তি, গোয়েন্দা কৌশল ও আঞ্চলিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যে কতটা জটিল, সেই চিত্রই যেন আবার সামনে এলো।
