পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বাস্তবে একে অপরের থেকে খুব বেশি দূরে নয় বলে দাবি করেছে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিশেষ সূত্রগুলো। বাহ্যিকভাবে অচলাবস্থা দেখা গেলেও পর্দার আড়ালে চলছে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ।
জানা গেছে, দুই দেশ এখন ধাপে ধাপে একটি সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। সম্ভাব্য চুক্তির প্রথম ধাপে যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং কোনো ধরনের বাধা বা শুল্ক ছাড়াই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে এই প্রাথমিক আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি এখনই তোলা হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, এই পরমাণু ইস্যুকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রধান কারণ বা “ক্যাসুস বেলি” হিসেবে সামনে এনেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে অবশ্যই তাদের বোমা তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগ করতে হবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
তবে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর শর্ত মানতে অটল অবস্থানে রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও বলছে, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের ওপরই তীব্র চাপ সৃষ্টি করছেন। চলমান এই প্রক্রিয়ায় আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কারণ পুরো পরিস্থিতির ওপর এখন যুদ্ধের আশঙ্কার ছায়া রয়েছে। সামান্য ভুল বা বিচ্যুতি ঘটলেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথ ছেড়ে আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।