রানির অন্ত্যেষ্টিতে ‘গড সেভ দ্য কিং’ গাইলেন না প্রিন্স হ্যারি! ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

 চোখের জলে রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয়কে বিদায় জানিয়েছে ব্রিটেন। গতকাল লন্ডনের (London) ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের (Queen Elizabeth) অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ায় রাজ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আরও ২ হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাঁদের সকলকে জাতীয় সংগীত ‘গড সেভ দ্য কিং’ গাইতে দেখা গিয়েছিল অনুষ্ঠানে। কিন্তু সেই মুহূর্তের ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। যে ছোট্ট ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রিন্স হ্যারি গান গাইছেন না। স্বাভাবিক ভাবেই এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, কেন নীরব যুবরাজ (Prince Harry)?

বহু নেটিজেনই হ্যারিকে তোপ দেগেছেন জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় নীরব থাকার জন্য। আবার কেউ কেউ তাঁর পাশেও দাঁড়িয়েছেন। একজনের দাবি, ‘ওকে আরও সুযোগ দেওয়া দরকার। সবে মাত্র গানটার লাইন বদলেছে। উনি এখনও নতুন শব্দগুলির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি।’ আরেকজনের দাবি, স্বয়ং চার্লসকেও জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে অন্য একজনের দাবি, হ্যারি আসলে গাইছেন। তবে নিঃশব্দে।

প্রসঙ্গত, ওয়েস্টমিনস্টার হল থেকে রানির কফিন বিশাল শোভাযাত্রার পর ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রায় দু’হাজার মানুষ এক শেষকৃত্যে অংশ নেন। যাঁদের মধ্যে ছিলেন বহু রাষ্ট্রের এবং সরকারের প্রধান ও প্রতিনিধিরা। সেখান থেকে বিশাল শোকযাত্রা কফিন নিয়ে ওয়েলিংটন আর্চের দিকে যাত্রা করে। এরপর রানির কফিন শবযানে উইন্ডসর প্রাসাদের দিকে যাত্রা করে। রানির কফিন নিয়ে শোকমিছিলটি উইন্ডসরের দীর্ঘ রাস্তা পেরিয়ে সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে যায়। সেখানে রানির স্মরণে আরেকটি প্রার্থনায় যোগ দেন প্রায় আটশো মানুষ।

সন্ধে সাড়ে সাতটায় (স্থানীয় সময়) রাজপরিবারের সদস্যরা সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে রানিকে তাঁর স্বামীর পাশে সমাহিত করেন। অনুষ্ঠানে আগাগোড়াই ছিল গাঢ় বিষাদের ছাপ। যে পাইপার প্রতিদিন সকালে রানির ঘুম ভাঙাতেন ১৫ মিনিট ধরে সুর শুনিয়ে, তাঁকে দেখা যায় ভিন্ন ভূমিকায়। তাঁর সেই বিদায়ী সুরের বিষণ্ণতা মুহূর্তগুলিকে আরও ভারী করে তোলে। ওই সুরের সঙ্গেই শেষ হয় এদিনের অনুষ্ঠান। অবশ্য পরে ওই ভল্ট থেকে রানি ও ফিলিপের দেহ তুলে রাজা ষষ্ঠ জর্জ মেমোরিয়াল চ্যাপেলে সমাহিত করা হয়। এখানেই রয়েছে রানির বাবা পঞ্চম জর্জ ও মা রানি এলিজাবেথের কবরও।

সংবাদ প্রতিদিন/এনবিএস/২০২২/একে news