মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন কোনো হামলা স্থগিত রাখবে। শনিবার ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন । তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অভূতপূর্ব সামরিক শক্তি নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তুত, তবে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অনুরোধে আমি আপাতত হামলা বাতিল করেছি—শর্ত থাকে যে একটি দ্রুত চুক্তি সম্ভব হবে' ।
ট্রাম্প জানান, চুক্তিতে অবশ্যই হরমুজ প্রণালী 'তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণরূপে' খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকি শেষ করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, 'ইসরায়েলও এই প্রতিশ্রুতিতে আমার সঙ্গে যোগ দিয়েছে। সবাই কাজ শুরু করুন এবং তা সম্পন্ন করুন।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে এই সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। এরই মধ্যে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ইরানের শক্তি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা করছে ।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে ফোন করে নিজেদের উদ্বেগ জানান এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান । অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পকে হামলা না করার জন্য অনুরোধ করেন ।
ঘটনার পটভূমি
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর একটি, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ইরান সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রণালীতে বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক ও হামলার ঘটনা ঘটায়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এখনও বিদ্যমান। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করলেও, এই হামলা স্থগিতের ঘোষণা কূটনৈতিক সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের দেওয়া শর্ত পূরণে ইরান কতটা রাজি হয়, তা এখনো স্পষ্ট নয় ।