দক্ষিণ কোরিয়া রোববার ইতিহাসের উষ্ণতম দিন অতিক্রম করেছে, যখন দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানের তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। কোরিয়া আবহাওয়া প্রশাসনের (কেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে এই রেকর্ড তাপমাত্রা ধরা পড়ে, যা ১৯০৪ সালে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ । ইয়াংসানে টানা পঞ্চম দিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে ছিল, অন্যদিকে ডেইগু ও বুসানের মতো শহরগুলোর তাপমাত্রাও ৩০ ডিগ্রির উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ।
প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ এসি-চালিত শপিং মল ও ক্যাফেগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। সিওলে এক স্টারবাকসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ২৭ বছর বয়সী অফিস কর্মী জু ডং-ইওল এএফপিকে বলেন, 'বাইরে কিছু করার মতো খুব গরম। বাসা, শপিং মল ও ক্যাফের মতো এসি-যুক্ত জায়গায় থাকা ছাড়া অন্য কোনো উপায় মনে হচ্ছে না'।
কেএমএ দেশটির ২০টির বেশি এলাকায় 'জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা' জারি করেছে, যা চলতি বছর চালু হওয়া নতুন সতর্কতা বিভাগ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, 'অবিলম্বে সব বহিরঙ্গন কার্যক্রম বন্ধ করুন। এসি-বিহীন ভবন বিপজ্জনক। দ্রুত শীতল স্থানে—যেমন কুলিং সেন্টার বা ছায়াযুক্ত এলাকায়—সরান এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন'।
দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার বেসবল লিগও চাংওন শহরে একটি ম্যাচ বাতিল করেছে, কারণ সেখানে তাপমাত্রা ৩৯.৫ ডিগ্রিতে পৌঁছায়—এটি শহরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ বাতিল। কোরিয়া বেসবল অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, 'দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে'।
কেএমএ তথ্য বলছে, দেশে গড় বার্ষিক তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে ১৯৭০-এর দশকের ৮ দিন থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৯ দিনে দাঁড়িয়েছে। তাপপ্রবাহের দিন বলতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি বা তার বেশি হয় এমন দিনকে বোঝায়।
ঘটনার পটভূমি
বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়া আরও ঘনঘন ও তীব্র হচ্ছে। এছাড়া, এল নিনো—প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বাড়ায় এমন প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা—এর প্রত্যাবর্তনও এই বছর চরম আবহাওয়াকে আরও বাড়িয়েছে। শুধু দক্ষিণ কোরিয়া নয়, ইউরোপও চলতি বছর প্রলম্বিত তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে উঠেছে। ইতালি বলেছে, সোমবার থেকে দেশটির প্রায় সব প্রধান শহর সর্বোচ্চ তাপ সতর্কতার আওতায় থাকবে। বৈশ্বিক তাপপ্রবাহের এই ধারা একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।