যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আধুনিক যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আগ্রাসী সামরিক হুমকি দিয়েছেন। আবার সেসব হুমকি থেকেও তিনি বারবার পিছিয়ে এসেছেন । ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই ৮০ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতার বক্তব্য বারবার বদলেছে—কখনো তিনি বিজয় ঘোষণা করেছেন, আবার কখনো ইরানকে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন ।

গত ১৭ জুন তিনি ইরানের নতুন নেতাদের 'খুব স্মার্ট' এবং 'কম কট্টরপন্থী' বলে প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ৮ জুলাই, তিনি হতাশ হয়ে বলেন, 'আমি আর তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না, তারা নীচু প্রকৃতির'। এমন দোলাচল ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নীতির এক চিরাচরিত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।

মার্চ-এপ্রিল: হুমকি ও পশ্চাদপসরণ

২১ মার্চ ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বলেন, 'যদি ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী হুমকিমুক্ত না করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে'। কিন্তু দুই দিন পর তিনি পাঁচ দিন সময় বাড়ান এবং ৬ এপ্রিল পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখেন । ৫ এপ্রিল ইস্টার রোববার তিনি অশ্লীল ভাষায় ইরানকে হরমুজ প্রণালী খোলার হুমকি দেন। ৭ এপ্রিল তিনি 'একটি পুরো সভ্যতা今夜 মারা যাবে' বলে হুমকি দেন—যা অনেকেই ইরানের প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যাকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত করেন ।

জুন-জুলাই: আবারও হুমকি ও প্রত্যাহার

১১ জুন তিনি ইরানের তেল অবকাঠামোতে 'খুব জোরালো' হামলার হুমকি দেন, কিন্তু পাঁচ ঘণ্টা পরই তিনি বলেন, আলোচনার অগ্রগতির কারণে তিনি হামলা বাতিল করেছেন। জুনে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, কিন্তু এক মাসের মধ্যেই আবার সংঘাত বেড়ে যায়। ৩১ জুলাই ট্রাম্প বলেন, 'আমরা তাদের খুব জোরালোভাবে আঘাত করব'। কিন্তু ১ আগস্ট তিনি দাবি করেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছে এবং 'একটি চুক্তির পরিধি সম্মত হয়েছে'—যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ।

ঘটনার পটভূমি

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো নাগরিক অবকাঠামোতে ইচ্ছাকৃত হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম্পের এই দোলাচলপূর্ণ নীতি শুধু ইরানের সঙ্গেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক তেলবাজারের ওপরও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় মিত্ররা এই অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে ফোন করে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন ।

Walton Ads