মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ‘বিনাশকারী’ হামলা স্থগিত করে তিনি কূটনৈতিক পথে সমাধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আজ (সোমবার) বিকেলে ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা শুরু হবে’ । ট্রাম্প জানান, ইরানের পাশাপাশি মার্কিন মিত্র সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারও তাঁকে হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে । শনিবার তিনি ইরানে হামলার হুমকি থেকে পিছিয়ে আসেন, যা তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা বলে অভিহিত করেছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘যখন মিত্ররা হামলা বাতিলের অনুরোধ জানায়, তখন আপনাকে ভাবতে হয়—’আচ্ছা, দেখা যাক।’ এবং তারা যে অনুরোধ জানিয়েছে, তার কারণ তারা মনে করে একটি চুক্তি সম্ভব’ । তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে পরিকল্পিত হামলার মাত্রা ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড়’ হতো এবং ইরানের পুনর্গঠন ‘অসংখ্য বছর লাগতো, যদি সম্ভবও হতো’ ।
হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক চুক্তি
ট্রাম্প জানান, প্রথমে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি চুক্তি হবে, তারপর ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা হবে । তবে গত মাসে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থিত ওমানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল, যা প্রণালীটি পরিচালনার জন্য স্বেচ্ছামূলক ফি সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছিল । ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি নতুন পথের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে, তবে তা প্রণালী খোলা বা বন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এটি আলাদা আলোচনা ।
ইসরায়েলের কঠোর বার্তা
ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী ও নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের সদস্য এলি কোহেন বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক সব বিষয়ে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সমন্বয় রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, এবং বাইরের কোনো প্রতিশ্রুতি নির্বিশেষে, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করে বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে অগ্রসর করে, আমরা সেখানে থাকব। আমরা পদক্ষেপ নেব এবং আঘাত করব’।
ঘটনার পটভূমি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা শুরুর পর থেকে এই সংঘাত চলছে। মাঝে মাঝে কূটনৈতিক উদ্যোগে স্বস্তি এলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে বৈঠক করেন, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রোধে কূটনীতি, অর্থনৈতিক চাপ ও শক্তি প্রয়োগ—সব সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয় । ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না, তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই দাবি গ্রহণ করে না। নতুন এই আলোচনা সংঘাত নিরসনে কতটা কার্যকর হয়, তা এখন সময়ই বলে দেবে।