মধ্যযুগীয় বর্বরতা সৌদি আরবে! ১০ দিনে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, গলা কেটে হত্যা

মধ্যযুগীয় নির্মমতা! শাস্তির নামে বর্বরতা, বলছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি। গত ১০ দিনে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড (Death Sentence)  কার্যকর করেছে সৌদি আরব (Saudi Arab) প্রশাসন। দোষীদের অধিকাংশকে একটি তরোয়াল দিয়ে গলা কেটে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মাঝে মৃত্যুদণ্ড সংখ্যা কমানো হবে বলে জানানো হয়েছিল সৌদি প্রশাসনের তরফে। যদিও সম্প্রতি তা বেড়ে গিয়েছে।

মাদক পাচারের (Drugs Smuggling) অভিযোগ যে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে সম্প্রতি, তাদের মধ্যে ৩ জন পাকিস্তানি, ৪ জন সিরীয়, ২ জন জর্ডনের নাগরিক এবং বাকি ৩ জন সৌদি আরবেরই বাসিন্দা। শুধু চলতি বছরেই ১৩২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি প্রশাসন। যা ২০২০ ও ২০২১-এর মৃত্যুদণ্ডের মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি। চলতি বছরের মার্চ মাসে খুন, সন্ত্রাসবাদ-সহ নানা অপরাধে জড়িত ৮১ জন অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি।


বছর কয়েক আগে সুলতান মোহাম্মদ বিন সালমান (Mohammed Bin Salman) জানিয়েছিলেন, সৌদি প্রশাসন মৃত্যুদণ্ড কম করার বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে। একমাত্র হত্যার আসামিদের ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। যদিও চলতি বছরের চরম শাস্তির হিসেব এই দাবিকে মিথ্যে প্রমাণিত করছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আমেরিকার সাংবাদিক জামাল খাশোগ্গিকে (Jamal Khashoggi) তুরস্ক (Turkey) প্রশাসন মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বাড়ছে।

গোটা ঘটনায় সৌদি আরবের একটি মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী বক্তব্য, “মোহাম্মদ বিন সালমান একাধিকবার মৃত্যুদণ্ড কম করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শুরুতে এই বিষয়ে কিছু উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছিল প্রশাসনের তরফে। কিন্তু আজকে দেখা যাচ্ছে সৌদি শাসনের একটা রক্তাক্ত বছর শেষ হচ্ছে। মাদক সংক্রান্ত ক্ষেত্রে চরম শাস্তি দেওয়া হবে না বলা হয়েছিল, অথচ চলতি বছরে সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। একাধিক ব্যক্তিকে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে চরম শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
খবর সংবাদ প্রতিদিন /এনবিএস/২০২২/একে news