প্রিগোজিনের পিছু হটায় বিলম্বিত হল পুতিনের পতন, টেলিগ্রামের বিশ্লেষণ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে পদানত করতে স্বল্পমেয়াদে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন। এখন তা দুই ফ্রন্টের যুদ্ধে ছড়িয়ে পড়েছে, যা অনেকটা তার নিয়ন্ত্রণ বাইরে চলে গেছে।

ইউক্রেন ফ্রন্টের যুদ্ধে তাকে কঠিন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তার শত্রু মাথা নত করতে অস্বীকার করেছে। অপ্রত্যাশিতভাবে শক্তিশালী মিত্রদের সমর্থনে সে সব হামলা মোকাবিলা করে যাচ্ছে। বিশ্বের সামনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর দুর্বল দিক উন্মোচিত হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলা দুর্নীতি ও আত্মতুষ্টির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রিগোজিনের ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টা তার নিজ দেশে আরেক ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে। এতে পুতিন সরকারের দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা প্রকাশ পেয়েছে।

প্রিগোজিন একটি গোলা না ছুড়েও গোটা ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য স্থাপিত মস্কোর কমান্ড সেন্টারটি দখল করে নিতে সক্ষম হন। এরপর ভারী অস্ত্র সজ্জিত তার ভাড়াটে বাহিনী বিনা বাধায় মস্কোর দিকে কয়েকশ’ মাইল পর্যন্ত অগ্রসর হয়। ওয়াগনার বাহিনী অন্তত ৭টি হেলিকপ্টার ও একটি পরিবহন বিমানকে ভূপাতিত করে বলে খবর পাওয়া গেছে। এটি ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার বিমান বাহিনীর জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ দিন।

সম্প্রতি ইউক্রেনের ভেতর থেকে সীমান্তের বেলগরোদ অঞ্চলে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা ঠেকানোর ক্ষমতা রুশ বাহিনীর নেই। এ জন্যে তাদেরকে আরেকটি মিলিশিয়া বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সে হল, রমজান কাদিরভের চেচেন বাহিনী। তাদের ৩০০০ যোদ্ধাকে সম্ভবত ইউক্রেন থেকে এনে ওয়াগনারকে মোকাবিলার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল। ইউক্রেনের রণাঙ্গনে ছড়িয়ে থাকা সেনাদের সরিয়ে না আনা পর্যন্ত এমন নাজুক অবস্থার কোন পরিবর্তন হবে না।

ইউক্রেন থেকে জানা গেছে যে, অপ্রত্যাশিত ঘটনার সময় উপরের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার সেনারা কাজ করতে পারেন না। এ থেকেই উপলব্ধি করা যায় যে, কেন ওয়াগনার য্দ্ধোারা এতো দূর পর্যন্ত অগ্রসর হতে পেরেছিল।

এসব ঘটনা পুতিনের দুর্বলতার প্রকাশ পেয়েছে। রুশ সেনা ও ওয়াগনারের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা তিনি করেছিলেন। এতে ক্রেমলিন অনেকটা অচল হয়ে পড়েছিল। রক্তপাত ছাড়া কিভাবে প্রিগোজিনকে থামানো যায় তারও চেষ্টা করা হয়। অবশেষে বেলারুশের নেতা লুকাশেঙ্কোকে কাজে লাগানো হয়।

কোনপক্ষে কত জন মারা গেল এ নিয়ে পুতিনের মাথা ব্যথা ছিল না। মস্কো বা মস্কো অভিমুখের সড়কে সংঘাতের ঘটনা ঘটলে তাতে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে থাকা তার বাহিনী ভেঙ্গে পড়তে পারত, আর এটিই ছিল তার প্রধান উদ্বেগের বিষয়। পুতিন জাতির উদ্দেশে তার টিভি ভাষণে তাই ওয়াগনার বিদ্রোহকে ১৯১৭ সালে ফ্রন্ট ভেঙ্গে পড়ার সাথে তুলনা করেছিলেন। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

 এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads