ইউক্রেন যুদ্ধ : বিশ্বব্যাপী  সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি

রাশিয়া-ইউক্রেন লড়াইয়ের ফলে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারূদের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী অস্ত্র শিল্পের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। একজন বিশেষজ্ঞ আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন।

আল-আরাবিয়ার প্রতিরক্ষা অনুষ্ঠান আস্কারিতারিয়ার সঙ্গে এ সাক্ষাৎকারে প্রফেসর পিটার সিঙ্গার একথা বলেন।

পিটার সিঙ্গার হলেন ফিউচার ওয়ার এন্ড দ্য স্কুল অব পলিটিক্স এন্ড গ্লোবাল স্টাডিজ এর প্রফেসর এবং নিরাপত্তার বিষয়ে একুশ শতকের একজন সেরা বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রতিরক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে।

পিটার সিঙ্গার বলেন, “এ যুদ্ধ সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারূদের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি করেছে। অধিকাংশ সামরিক বাহিনী এরআগে ঠিক এ অবস্থানে ছিল না। কিন্তু যেসব দেশ অস্ত্র সরবরাহ করছে যেমন যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি ইরানও এখন চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে।” তিনি বলেন, রুশদের কেবল ক্ষেপনাস্ত্র নয়, এমনকি কামানের গোলার টান পড়েছে। সিঙ্গার আরও বলেন, ড্রোন ও অন্যান্য প্রযুক্তির প্রচলিত অস্ত্রশস্ত্র যা আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও বিদ্রোহ দমনের কাজে ব্যবহার করা হতো এখন তা প্রচলিত যুদ্ধেও কার্যকর অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৫২ কোটি ২০ লাখ ডলারের কামানের গোলা সরবরাহের চুক্তি করেছে। প্রচলিত যুদ্ধে মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থা ও ড্রোন ব্যবহারের ফলে অন্যান্য সামরিক বাহিনী নিজেদের প্রতিরক্ষায় তা সংযোজন করার কথা পুণর্বিবেচনা করছে। এর ফলশ্রুতিতে ড্রোন বিধ্বংসি প্রযুক্তির তাৎপর্যপূর্ণ উত্থান ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা সামরিক বাহিনীর সদস্য বিশেষকরে সার্জেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানের কথা উল্লেখ করেছেন, যা এসব প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিঙ্গার বলেন, ইউক্রেনে বড় যুদ্ধে আমরা এসব অস্ত্রকে কার্যকর ও প্রভাবশালী হিসেবে প্রমাণিত হতে দেখতে পেয়েছি। এর মধ্যে কেবল তুরস্ক সরবরাহকৃত বড় আকারের ড্রোনই বোঝানো হচ্ছে তা নয়, ক্ষুদ্র অসামরিক ব্যবস্থায়ও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ট্যাংক ও রণতরী “অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর” প্রমাণিত হয়েছে। তবে এর অর্থ এ নয় যে, এগুলো আর ব্যবহৃত হবে না।

তিনি বলেন, বাশিয়া এগুলো (ট্যাংক) অবশ্যই ব্যবহার করবে, খুবই নিরবে ও সতর্কতার সঙ্গে। এর অর্থ হলো সংঘাতের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের বিষয়টি সঠিক নয়, এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে। আমরা এখনও যুদ্ধজাহাজ ও ট্যাংক বিক্রি হতে দেখতে পাচ্ছি। প্রত্যেক দেশ শ্রেণীকক্ষের গবেষনাগারে পরীক্ষা করার মতো ইউক্রেন যুদ্ধকে দেখছে। তারা দেখছে যে, কোনটি করতে হবে, আর কোনটি করতে হবে না।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads